গেল দুই সপ্তাহ ধরে পাইকারিতে সবজির দর পড়তির দিকে। উচ্চমূল্যের সার ও কীটনাশক দিয়ে আবাদ করে সবজির বিক্রির টাকা দিয়ে খরচই উঠছে না। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মেহেরপুরের গাংনীর সবজি চাষীরা।
গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদ শীতকালের চেয়ে ব্যয়বহুল। ভাল দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক ঝুঁকি মেনেও সবজি আবাদ করেন। বিশেষ করে চাল কুমড়া, পটল, লাউ, ধুন্দল, করলা, এবং মুখিকচুতে ভাল দাম পেয়ে থাকনে কৃষকরা। তবে এবারের বাজারের চিত্র ভিন্ন।
গেল দুই সপ্তাহ ধরে অব্যহত রয়েছে দর পতন। আজকের বাজারে পটল ২৫ টাকা কেজি, করলা ২০ টাকা, পেঁপে ৮ টাকা, চাল কুমড়া ৮ টাকা লাউ ২০ টাকা পিস হিসেবে বেচাকেনা হয়েছে। গেল বছরে এই সময়ে এসব সবজির দাম ছিল ৪০ টাকার উপরে। পাইকারিতে অস্বাভাবিক দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে শংকিত সবজি চাষীরা।
বেগুন চাষি সাহারবাটির মধু জানান, বুধবার বেগুন পাইকারি বিক্রি করা হয়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা করে। আজ বৃহষ্পতিবার সেই বেগুন ১০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। বতর্মানে সার, কীটনাশক, শ্রমিকসহ সব জিনিসের দাম বেশি। এখন সবজি চাষে আগের থেকে খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। এভাবে চলতে থাকলে লোকশান গুনতে হবে।
আরেক সবজি চাষি একরামুল জানান, ১০ দিন আগেও সবজির দাম বেশ ভালো ছিল। অথচ এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে যারা বর্গা, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি তারা মোটা টাকা লোকসান গুনবেন।সরকারি দরের চেয়ে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে টিএসপি সার। বর্ষায় উৎপাদন ঠিক রাখতে প্রয়োগ করতে হচ্ছে অতিরিক্ত কীটনাশক। পাইকারি বাজারে সবজির কাঙ্কিত দাম না পেলেও খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি।
গাংনী কাঁচা বাজারের আড়তদার সাহাদুল ইসলাম জানান, মেহেরপুর জেলায় উৎপাদিত সবজির অতিরিক্ত চলে যায় চট্রগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায়। সেখানে চাহিদা কম থাকায় সবজির দাম কমে যাচ্ছে। তবে স্থানীয়ভাবে বাজারে খুচরা বাজারে কিছুটা দাম কমেছে এমনটি জানানের স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ীরা।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাগ আল মামুন জানান, চলতি মৌসুমে বেশি সবজি চাষ হয়েছে। উৎপাদনও ভাল। তাই সবজির বাজারে ক্রেতাদের স্বস্তি ফিরেছে। একই সময়ে একই সবজি বেশি চাষ হওয়ায় দাম কিছুটা কমে। তবে জেলার বাইরে থেকে ব্যবসায়ি সবজি কিনতে আসলে স্থানীয় বাজারে কিছুটা সবজির দাম বাড়লেও চাষিরা লোকসানের হাত থেকে বাঁচতো।
জির দাম, দিশেহারা কৃষক