মুহুরি-কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনী সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ‘ফেনী জেলাধীন পরশুরামের মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকেই প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্প পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম সাফায়াত আক্তার নূর, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কাজী ইউসুফ মাহফুজসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় এ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রতিবেশী দেশ ভারত বাঁধ খুলে দেওয়ার পর পানি প্রবেশ করে এ অঞ্চল প্লাবিত হয় এবং এতে স্থানীয় মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মানুষের দাবি ছিল স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে স্থায়ীভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুমোদন দিয়েছেন।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী আরও বলেন, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে নদীভাঙন থেকে হাজারো মানুষ সুরক্ষা পাবেন। পাশাপাশি প্রকল্পটি স্থানীয় অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ‘ফেনীর পরশুরামের মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় এ অঞ্চলে ২৯ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া শত শত ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পানিতে তলিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণসহ ফেনীর মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পটি গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এ মেগা প্রকল্পের আওতায় নদীতীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কারের কাজ করা হবে।