মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

নির্বাচন যত এগোচ্ছে, নেতানিয়াহু ততই দুর্বল হচ্ছেন

ইসরাইলের নির্বাচনের আর মাত্র ৫৬ দিন বাকি। এরই মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্রমশ দুর্বল মনে হচ্ছে, কারণ তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা জরিপে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছেন। ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদের জনপ্রিয়তা কমার চিত্র উঠে এসেছে। নেতানিয়াহু এই নির্বাচনকে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের […]

নির্বাচন যত এগোচ্ছে, নেতানিয়াহু ততই দুর্বল হচ্ছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১

ইসরাইলের নির্বাচনের আর মাত্র ৫৬ দিন বাকি। এরই মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্রমশ দুর্বল মনে হচ্ছে, কারণ তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা জরিপে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছেন।

ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদের জনপ্রিয়তা কমার চিত্র উঠে এসেছে।

নেতানিয়াহু এই নির্বাচনকে তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তার বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা চলছে। পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।ক্ষমতায় থাকাকে সম্ভাব্য ফৌজদারি শাস্তি থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় হিসেবে দেখছেন নেতানিয়াহু। কারণ ইসরাইলের আদালতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার চলছে।

নেতানিয়াহুর আশা, নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবারও সরকার গঠন করতে পারবেন। অন্যথায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে তিনি ও বিরোধীরা কেউই জোট গঠন করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে নতুন নির্বাচন পর্যন্ত বর্তমান সরকারই ক্ষমতায় থাকতে পারে।

ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমে রবিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, এখন নির্বাচন হলে নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অনারব বিরোধী দলগুলো পেতে পারে ৫৫টি এবং আরব আইনপ্রণেতারা ১৩টি আসন। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন।

বিরোধী দলগুলো সরকার গঠনে আরব আইনপ্রণেতাদের সমর্থন চাইতে পারে। তবে তাদের অধিকাংশ নেতা এখনো এমন জোটের বিরোধিতা করছেন।

এখন সবার নজর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকোটের দিকে। তাকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধী নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার নতুন দল ইয়াশার সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং জরিপে লিকুদকেও পেছনে ফেলেছে।

জরিপ অনুযায়ী, ইয়াশার ২৪টি আসন পেতে পারে, যেখানে লিকুদের আসন হতে পারে ২১টি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে বেশি যোগ্য-এমন প্রশ্নেও আইজেনকোট এগিয়ে রয়েছেন। ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা তাকে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য উপযুক্ত মনে করেছেন, যেখানে নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৭ শতাংশ।

এদিকে ডানপন্থী দলগুলোর ভোট ধরে রাখতে নেতানিয়াহু নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন ধরে রাখতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়ে তিনি নীরব ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নেতানিয়াহু ও কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দাবি করেছেন, ২০২২ সালের শেষ দিকে গঠিত সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১০৪টি অবৈধ বসতি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে এবং ১৬০টি কৃষি বসতি চৌকি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে।

তবে নেতানিয়াহুর সামনে দুটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর একটি হলো নতুন ডানপন্থী দলগুলোর উত্থান, যা তার ভাষায় হাজার হাজার ডানপন্থী ভোট বিভক্ত করে দিতে পারে। অন্যটি হলো তিনটি আরব দলের জোটবদ্ধ হয়ে ‘জয়েন্ট লিস্ট’ গঠন, যা আরব ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে পারে।

আগের জরিপগুলোতে আরব দলগুলো ১০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হলেও সাম্প্রতিক জরিপে সেই সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩টি হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

ইসরাইলের প্রায় ১ কোটি জনসংখ্যার ২০ শতাংশ আরব নাগরিক। তাদের বেশি ভোটার উপস্থিতি ছোট ডানপন্থী দলগুলোর নির্বাচনী সীমা পার হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে। এতে নেতানিয়াহুর জোট সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় আসন হারাতে পারে এবং বিরোধীদের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

এ কারণে ডানপন্থী ভোট ভাগ হওয়া ঠেকাতে ছোট দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। তিনি ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থী জিউইশ পাওয়ার পার্টি ও স্মোট্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টিকে একীভূত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।

এখন নেতানিয়াহু স্মোট্রিচ ও লিকুদের সাবেক সংসদ সদস্য মোশে ফাইগলিনের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

ইসরাইলি চ্যানেল ২৪ সোমবার জানিয়েছে, নির্বাচনী তালিকা জমা দেওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় নেতানিয়াহু স্মোট্রিচ, ফাইগলিন এবং বেন-গভির অথবা ওফার উইন্টারের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় ডানপন্থী জোট গঠনে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

চ্যানেলটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লিকুদ নেতার বরাতে জানিয়েছে, পরিস্থিতিটা অনেকটা রাশিয়ান রুলেটের মতো, যা কেউ খেলতে চায় না। আমরা ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সফল হচ্ছি না।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১২১

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১২১

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়া দেশকে ‘শত্রু’ বিবেচনা করবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, কোনো দেশেরই তাতে অংশ নেওয়া উচিত নয়। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়া দেশকে ‘শত্রু’ বিবেচনা করবে ইরান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৪

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় কোনো দেশ যোগ দিলে তাকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এ সতর্কবার্তা দেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, কোনো দেশেরই তাতে অংশ নেওয়া উচিত নয়। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মিত্র কিংবা অন্য কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তেহরান তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

এর আগে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে এবার তার জবাব আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে দেওয়া হবে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান তার সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘদিন দেশটির সামরিক নীতি মূলত প্রতিরক্ষামূলক থাকলেও এখন তা ধীরে ধীরে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিকে যাচ্ছে।

তবে আকরামিনিয়া স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ ইরান আগাম হামলা চালানোর নীতি গ্রহণ করছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর কোনো আগ্রাসন হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং সেই প্রতিক্রিয়ার পরিসর মূল হামলার চেয়েও বড় হবে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১২১

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১২১