সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে এসেছে।
বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৪৩০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। অন্য দুজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।
নওগাঁর নিহতরা হলেন—উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া নাটোরের রবিউল ইসলাম ও রাজশাহীর শ্যামল উদ্দিনের মরদেহও দেশে এসেছে।
জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে ঘুমাচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় আগুন লাগার পর তারা বের হতে পারেননি। এতে ঘটনাস্থলেই ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।
বিমানবন্দরে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, নিহত বাকি সাতজনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলছে।
তিনি জানান, নিহত ৯ কর্মীর প্রত্যেক পরিবারের জন্য মরদেহ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন আর্থিক অনুদান ৩ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক পরিবার মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা পাবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাকি নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করছেন। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে দ্রুত তাদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে।