বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি আরও জোরদারে শিক্ষাকে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
বুধবার আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ল্যাবরেটরি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীন যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহী।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের সূচনা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। বর্তমান সরকারও চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার পর চীন সফর করেন।
তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসায় নির্বাচিত হয়ে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হলো নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। আর এই অঙ্গীকারের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার।
মাহদী আমিন বলেন, দল, মত ও আদর্শের পার্থক্য ভুলে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার শিক্ষাকে আরও সর্বজনীন করতে চায়। দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ অর্থনীতির অন্যতম বড় শক্তি। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অতিমাত্রায় তত্ত্বনির্ভর থাকায় শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা বাস্তব কর্মজীবন ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি।
সরকার শিক্ষাকে সম্পূর্ণ কর্মমুখী ও প্রায়োগিক করতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে তিনি বলেন, সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তরুণদের এগিয়ে নিতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মান্দারিন বা চীনা ভাষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, পাঠ্যক্রমের সঙ্গে কর্মবাজারের সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ সহজ করতে আধুনিক এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বৈশ্বিক র্যাংকিং ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, চীনের উন্নত গবেষণা সংস্কৃতি ও গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা অনেক বেশি। প্রয়োজন শুধু যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম ও আধুনিক প্রশিক্ষণ। এ ক্ষেত্রে চীনের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের সংখ্যা বহুগুণে বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।