যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে নতুন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিলে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আঞ্চলিক মিত্র ও প্রক্সিদের হামলা বন্ধ করলে ওয়াশিংটন সদ্য শুরু করা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বাতিল করবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধও শেষ করার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল-হাদাস ও আল-আরাবিয়ার বরাত দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। সৌদি সংবাদমাধ্যম দুটির প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সম্প্রতি তেহরান সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দেন। সফরে তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকটিকে ‘স্পষ্ট ও সিদ্ধান্তমূলক’ আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রস্তাবটি গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচিত একটি সমঝোতা স্মারকের কিছু বিষয় পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টার অংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সমঝোতার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের চলমান শত্রুতা কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা।
আল-হাদাস মঙ্গলবার জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে নিষেধাজ্ঞামুক্ত করার পাশাপাশি দেশটির ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে তেহরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান-সমর্থিত প্রক্সিদের হামলা বন্ধ করতে হবে।
সৌদি সংবাদমাধ্যম দুটির সঙ্গে কথা বলা ওই জ্যেষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মাধ্যমেই প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। মুনিরের সঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিও তেহরান সফরে ছিলেন। এক দিনের এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এগিয়ে নেওয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বৈঠকে মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, তেহরান প্রস্তাবটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা করবে এবং শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দেবে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগির ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালাবে—এমন সম্ভাবনা কম। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত অন্য ধরনের চাপ প্রয়োগের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঘোষণা করা নতুন নিষেধাজ্ঞা উদ্যোগও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলো এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এপ্রিল মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সরাসরি লড়াই থামলেও জুলাইয়ে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরই মধ্যে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আগে থেকে থাকা নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরান থেকে আসা এবং ইরানের দিকে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করার কথাও জানানো হয়।
ফলে একদিকে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ আরও কঠোর করছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে একই অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাবও দিচ্ছে। এই দুই বিপরীতমুখী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখন নতুন করে কূটনৈতিক দর-কষাকষির পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?