মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

হাতিয়াতে কাগজে-কলমে প্রকল্প, সরকারি অর্থ হরিলুট ইউপি সচিবের

নোয়াখালী প্রতিনিধি; নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরনী ও চানন্দী ইউনিয়নে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে সরকারি অর্থ ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে হরিলুটের সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউপি-২ শাখা হতে গত ৩রা জুন ২০২৬ এ সারাদেশে “ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ” শীর্ষক প্রকল্পে ৪৫৭৯টি পরিষদের অনুকূলে উন্নয়ন কাজ করার […]

হাতিয়াতে কাগজে-কলমে প্রকল্প, সরকারি অর্থ হরিলুট ইউপি সচিবের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৮ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫৫

নোয়াখালী প্রতিনিধি;

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরনী ও চানন্দী ইউনিয়নে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে সরকারি অর্থ ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে হরিলুটের সত্যতা পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউপি-২ শাখা হতে গত ৩রা জুন ২০২৬ এ সারাদেশে “ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ” শীর্ষক প্রকল্পে ৪৫৭৯টি পরিষদের অনুকূলে উন্নয়ন কাজ করার লক্ষ্যে সরকার আশি কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দিয়েছেন। যার স্মারক নম্বর-১৪৫০।

মন্ত্রনালয়ে ঐ পত্রে হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করার জন্যে চার লক্ষ সত্তর হাজার টাকা এবং চানন্দী ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে চার লক্ষ বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ তথ্য পাওয়া যায়।

সরেজমিনে হরণী-চানন্দী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যালয়ে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর ৮ ধারা অনুযারী প্রকল্প গুলোর তথ্য চেয়ে আবেদনপত্র জমা দেন দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি।

প্রথমে গণমাধ্যম কর্মীদের এমন প্রকল্প আসেনি বলে দ্বারসারা বক্তব্যে দিতে শুরু করেন সচিব। পরে মন্ত্রনালয়ে চিঠি দেখানো হলো তিনি জানান, আমি ভুলে গেছি ও মনে পড়েছে বিষয়টি।

এরপর ইউপি সচিব এ প্রতিবেদকে জানান, আমরা হরণী ইউনিয়নে এ টাকা দিয়ে ৫নং ওয়ার্ড ইসলামপুর সমাজের দিদার বাজার সংলগ্ন ১৬৫০ মিটার মাটির রাস্তা নিমার্ণ এবং হাতিয়া বাজার গরুর হাট সংলগ্ন ড্রেইন নিমার্ণ করতে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার একটি প্রকল্প এবং ইউনিয়নের গুরুত্বপূৃর্ণ স্থানে বৃক্ষ রোপন নামে আরেকটি প্রকল্পে দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি।

চানন্দী ইউনিয়নের বরাদ্দ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী নামে একটি প্রকল্পে দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা এবং ভূমিহীন বাজার মাটির রাস্তা নিমার্ণ নামে অপর প্রকল্পে দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছি।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হরণী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড ইসলামপুর সমাজে পুরাতন একটি রাস্তার উপর কবিরের বাড়ি থেকে নবীবের বাড়ি পর্যন্ত কোথাও এক ইঞ্চি হতে দেড় ইঞ্চি মাটি ভরাট করা হয়েছে। তাও কোন শ্রমিক দিয়ে নয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে চুক্তিতে টাংকি ঘাট এলাকার ভেকু মেশিনের মালিক ইব্রাহিমের মাধ্যমে।

স্থানীয় আবদুল মতিন, ইলিয়াছ,রাসেল, একরাম সহ অনেকে জানান, ২০ ঘন্টার মতো ভেকু মেশিন দিয়ে কৃষি অফিসার স্যার কাজটি করেছেন সচিবের নির্দেশে শুনেছি। কত টাকা বরাদ্দ আমরা জানি না।

তাদের দাবি বড়জোর ৬০/৭০ হাজার টাকার মাটির কাজ করা হয়েছে। অথচ প্রকল্পটি কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে দুই লক্ষ টাকা। প্রকল্পের পুরো অর্থ ব্যায় না করে ইউপি সচিবসহ কমিটির অন্যান্যরা সরকারি এ অর্থ হরিলুট করেছেন।

যা প্রকল্প এলাকা ঘুরে সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও হাতিয়া বাজার ড্রেইনের দৃশ্যমান কোন কাজ দেখা যায়নি। নামমাত্র গরুর হাটের জলাব্ধতা দূর করতে নালা পরিষ্কার চিত্র চোখে পড়েছে। বড়জোর শ্রমিক দিয়ে ১০ হাজার টাকার মতো ব্যায় করা হয়েছে।

এরপর আরেকটি প্রকল্পে দেখা যায়, হরণী ইউনিয়ন পরিষদের চারপাশে কিছু ফলজ,বনজ,ঔষুধি গাছের চারা লাগানো হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সচেতন মহল জানান বড়জোর ২০ হাজার টাকার গাছ কিনেছেন সচিব। কিন্তুু কাগজে কলমে প্রকল্পটির খরছ দেখানো হয়েছে দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা।

চানন্দী ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের এই প্রতিবেদকের হাতে কিছু গাছের চারা বিতরণের ছবি এসেছে। নামমাত্র চারা বিতরণ করে প্রকল্পের পুরো অর্থ সচিব সহ একটি সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও মাটির রাস্তা নিমার্ণ নামে যে প্রকল্প কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে তার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি পুরো ইউনিয়নে। 

প্রকল্প কাজ না হওয়া কিংবা নামমাত্র কাজ করায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ দিন দিন চরম আকার ধারণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের বরাদ্দ ও কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তার যথাযথ প্রতিফলন নেই। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে জানতে হরণী-চানন্দী ইউনিয়নের সচিব মোয়াজ্জম হোসেন কে একাধিক বার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বার বার সংযোগ কেটে দেন। অন্তত্ব ৩ দিন অভিযুক্ত সবিরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে জনসাধারণের জীবন মান উন্নয়নে সরকার বরাদ্দ দিচ্ছে। অথচ অসাধু এসব কর্মকর্তারা কাজ না করে সেই অর্থ হরিলুট করছেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বরাদ্দপত্র, প্রাক্কলন, প্রকল্প কমিটির কাগজপত্র, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, কাজ সম্পন্নের প্রত্যয়ন এবং অর্থ উত্তোলনের নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকারি অর্থের ক্ষতি নিরূপণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণের দুর্ভোগ নিরসনে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হোক

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসেল ইকবাল জানান,বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। “খোঁজখবর নিয়ে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীদের।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।