অতীতের সহিংস রাজনীতি থেকে ছাত্রদল বের হতে পারছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যতটুকু মনে হয়েছে, ছাত্রদল অতীতে যে সহিংস রাজনীতি ছিল, সেটা থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। আমরা তাদের আহ্বান জানিয়েছি, তারা যেন এই সহিংসতা থেকে বের হয়ে আসে।’
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর নগরীর ডিসি মোড় এলাকায় একটি হোটেলে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ‘বাংলাদেশে বেশ কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিতিশীলতা দেখেছি। বিশেষ করে এই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে সরকারদলীয় যে ছাত্র সংগঠন আছে, তাদের ভূমিকা অগ্রগণ্য বলে আমরা মনে করছি।’
তিনি বলেন, ‘রংপুরে তাদের নেতৃত্বে মূলত আমাদের জুলাই প্রদর্শনীতে হামলা করা হয়েছে। পরবর্তীতে একে একে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। সেখানে ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রশক্তি, ইনকিলাব মঞ্চসহ অসংখ্য শিক্ষার্থীকে আহত করা হয়েছে।’
ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শিবিরের এই নেতা বলেন, ‘ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায়ও আমরা দেখেছি সেখানে আক্রমণ করা হয়েছে। সেখানে যুবদলের সন্ত্রাসী নয়ন পর্যন্ত এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। দুঃখজনক হলো, ঢাকা কলেজে যে প্রোগ্রামটি ছিল, সেটা ছিল জুলাইয়ের শহীদদের জন্য দোয়া এবং আহতদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও হামলা করা হয়েছে।’
এসব ঘটনাকে ‘একপাক্ষিক হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে সিবগাতুল্লাহ বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। সবকিছু বিচার বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত ধৈর্যশীলতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তবে কেউ যদি ক্যাম্পাসে অস্থির পরিবেশ তৈরি করতে আসে, আমরা শিক্ষার্থীদেরকে নিয়েই তার জবাব দেবো।’
শিবির সেক্রেটারি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখন পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমাদের প্রজন্ম এ ধরনের সহিংসতা পছন্দ করছে না। সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে আমরা দেখেছি, সহিংসতার পথ বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে নিয়ে আসবে না।’
মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মুহতাসিম বিল্লাহ শাহেদী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মুহাম্মদ ইবরাহীমসহ মহানগর কমিটির নেতারা।