সজিব রেজা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় এক সিআইডি ইন্সপেক্টরকে গালিগালাজ, থাপ্পড় ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব মো. মজিবর রহমান মজিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই সিআইডি ইন্সপেক্টর বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আরও দুই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে সিআইডি ইন্সপেক্টর নওয়াবুর রহমান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মজিবর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি হত্যা মামলার নথিপত্র সংগ্রহ এবং পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে কোতোয়ালি থানায় যান সিআইডি ইন্সপেক্টর নওয়াবুর রহমান। রাত ৯টা ৩৮ মিনিটের দিকে থানার ওসির কক্ষের সামনে গেলে এক ব্যক্তি তার কাছে ওসি কোথায় আছেন জানতে চান।
এ সময় নওয়াবুর রহমান নিজেকে সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি একটি মামলার তদন্তের কাজে থানায় এসেছেন এবং ওসি কোথায় আছেন তা জানেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, এতে ওই ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এজাহারে বলা হয়, গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তির উসকানিতে মজিবর রহমান নওয়াবুর রহমানের ডান গালে সজোরে থাপ্পড় মারেন।
ঘটনার সময় থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে থাকা এসআই মো. মানিক রানা, এসআই মো. মমিনুর রহমান ও কনস্টেবল মো. রফিকুল ইসলামসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
এজাহার অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা নওয়াবুর রহমানের পরিচয় জানালে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও পুলিশ পরিবারকে উদ্দেশ করে অশ্লীল ও মানহানিকর কথাবার্তা বলেন এবং হত্যার হুমকি দেন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মজিবর রহমানকে থানা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম-ঠিকানা জানান। তবে তার সঙ্গে থাকা অপর দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডি ইন্সপেক্টর নওয়াবুর রহমান জানান, ঘটনার পর তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। চিকিৎসা গ্রহণ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি মামলা করেন। মামলার সঙ্গে চিকিৎসাপত্রের মূল কপি এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সম্বলিত একটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী বলেন, থানায় দায়িত্ব পালনকালে সিআইডির এক ইন্সপেক্টরের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই ইন্সপেক্টর বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে রাতেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।