কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিন কিশোর শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গুরুতর আহত নাঈম (১৫) মারা গেছে। পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (১০ আগস্ট) তার মৃত্যু হয়।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের মুদিরগাঁও এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত নাঈম জয়সিদ্ধি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মুদিরগাঁও গ্রামের ইছুব মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় আহত অপর দুই শিক্ষার্থী হলো—একই গ্রামের মাহাবুবের ছেলে ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মুসাঈন (১৬) এবং নজরুল ইসলামের ছেলে ও ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী রাহাত (১৭)। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্কুল ছুটির পর নাঈম, মুসাঈন ও রাহাত বাড়ি ফিরছিল। এ সময় একই এলাকার গোলাপ মিয়ার ছেলে আকাশ (১৫) ধারালো ছুরি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তিন শিক্ষার্থীই আহত হয়।
হামলায় নাঈমের বুক ও পেটে গভীর আঘাত লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার তার মৃত্যু হয়।
নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে ঘটনার বিচার ও অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত আকাশ এর আগেও বিভিন্ন মারামারি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এসব বিষয়ে তার পরিবারের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের প্রশ্রয়ে আকাশ এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় পার পেয়ে গেছে।
নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আকাশ ও তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।