জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে এর কৃতিত্ব ভাগাভাগি করে নিয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম লেখেন, “জুলাইকে আমরা রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে ফেলেছি। বিএনপির ভাগ কত, এনসিপির ভাগ কত, জামায়াতের ভাগ কত—এভাবেই জুলাইয়ের স্টেক ভাগাভাগি হয়েছে এবং হচ্ছে।”
পোস্টের শুরুতে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে সবাইকে ‘জুলাই বিপ্লবের শুভেচ্ছা’ জানান।
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় অসংখ্য সাধারণ মানুষ, যাদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না, তারা নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন। কেউ আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন, কেউ চিকিৎসা দিয়েছেন, কেউ পানির বোতল হাতে এগিয়ে এসেছেন। এমনকি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন তরুণ-তরুণীরাও আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আন্দোলনের পর সেই সাধারণ মানুষদের অধিকাংশই ঘরে ফিরে গেছেন। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং এখন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাদের দেখা যায় না।
নাহিদের ভাষায়, “জুলাই শুধু রাজনৈতিক দল বা নেতাকর্মীদের ছিল না। এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের, এমনকি যারা রাজনীতি অপছন্দ করেন কিংবা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন—তাদেরও।”
তিনি বলেন, ওই মানুষদের অংশগ্রহণ ছাড়া জুলাই আন্দোলন সফল হতো না। কিন্তু এখন তাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না।
পোস্টে তিনি জানান, জুলাইয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গত দুই দিনে যতটা সম্ভব সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানোর চেষ্টা করেছেন। অনেককে বার্তা পাঠালেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
তিনি লেখেন, “আমার ইচ্ছা বাংলাদেশের ষোল কোটি বিপ্লবীকেই ধন্যবাদ জানানো। কিন্তু মানবিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। যারা আমার বার্তা পাননি, তাদের প্রত্যেকের প্রতিই আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
জুলাই-পরবর্তী প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি স্বীকার করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিবর্তনের পথে অনেক বাধা ছিল। তবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসেননি।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম আমৃত্যু চালিয়ে যাব। দেশের প্রয়োজনে সবাইকে আবারও একসঙ্গে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।”