বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর সাহস পাবে না।
বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের যথাযথ সম্মান জানাতে হলে হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। এ আন্দোলনে অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিশু ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দেশে অবস্থানকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিদেশে পলাতকদের ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগও নিতে হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে কাদের গণি চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখতে হবে।
সমাবেশের আগে বিএফইউজে ও ডিইউজের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে একটি বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে সাংবাদিক নেতা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী এবং সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।