হবিগঞ্জে হামলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক আলিফ চৌধুরীর এক চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে প্রতীকীভাবে চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না; সংস্কার ও বিচার—দুটিই নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বড় জেল, ছোট জেল কিংবা কবরের ভয় দেখিয়ে কাউকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের লড়াই চলবে, সংস্কারও হবে, বিচারও হবে।”
আলিফ চৌধুরীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এখানে লেখা আছে—‘আলিফের চোখ ফিরিয়ে দিন’। তারা কি সেই চোখ ফিরিয়ে দিতে পারবে? নিজেরাই তো অন্ধ। চোখ থাকলে আলিফের কান্না দেখত, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করত।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, তিনি বিএনপির বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে আসেননি। যাত্রাবাড়ীতে শহীদ পরিবারের একটি অনুষ্ঠানে এক শহীদের বাবার বক্তব্য শোনার পর তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেন।
তার দাবি, ওই শহীদের বাবা অভিযোগ করেছিলেন, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের ‘শহীদ’ হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাকে ১০ লাখ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের দলীয় শহীদের তালিকাও প্রকাশ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “যারা শহীদদের দলীয় সম্পদে পরিণত করতে চায়, তারা শহীদদের আদর্শ কিংবা জুলাই সনদের চেতনাকে ধারণ করে না।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পরিবর্তে তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। আহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “এস আলমের পেছনে ঘোরাঘুরি না করে আহত ভাইদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।”