এক সময় টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের শাল গজারী বনের অন্যতম পরিচিত বনজ ফল ছিল চাম্বল বা চাম কাঁঠাল। সুস্বাদু এ ফল বনবাসীদের জীবিকার পাশাপাশি বানর, হনুমান, গন্ধগোকুলসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বন উজাড়, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া ও নির্বিচারে গাছ নিধনের কারণে ঐতিহ্যবাহী এ ফলের গাছ এখন বিলুপ্তির পথে।
সম্প্রতি মধুপুর সদর, চারালজানি ও রাজাবাড়ী বিট এলাকায় সরেজমিনে চাম্বল গাছ ও ফলের সীমিত উপস্থিতি দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় মধুপুর গড়জুড়ে হাজার হাজার চাম্বল গাছ থাকলেও বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি এলাকায় এ গাছ টিকে আছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে মধুপুর সদর ও জলছত্র বাজারে অল্প পরিসরে ফলটি বিক্রি হলেও আগের মতো প্রাচুর্য নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা রনি মিয়া বলেন, আগে মৌসুমে প্রচুর চাম কাঁঠাল পাওয়া যেত। এখন খুব কম দেখা যায়। নুরুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি এলাকা থেকে সংগ্রহ করে বাজারে আনা এ ফল বর্তমানে প্রতিটি ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জাতীয় উদ্যান সদর বিটের ডেপুটি রেঞ্জার মোশাররফ হোসেন জানান, রাজাবাড়ী বিট এলাকায় এখনো কয়েক হাজার চাম্বল গাছ রয়েছে। গাছগুলো ১০০ থেকে ১২০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয় এবং মৌসুমে প্রচুর ফল ধরে।
স্থানীয় সাংবাদিক লিটন সরকার বলেন, একসময় চাম্বল ফল বনের বানর, হনুমানসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর অন্যতম প্রধান খাদ্য ছিল। গাছ কমে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীরা খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে। এতে অনেক প্রাণী সড়ক দুর্ঘটনায়ও মারা যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, চাম কাঁঠাল একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বনজ ফল। এ ধরনের দেশীয় বনজ ফল সংরক্ষণে বনবিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, মধুপুর গড়ের জীববৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য রক্ষায় চাম্বল গাছ সংরক্ষণ, নতুন করে চারা রোপণ এবং বন উজাড় বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।