জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তরুণরা পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর বর্তমান সরকার সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, ‘যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ। ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই সরকার আর সংস্কারের কথা বলছে না।’
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি শাখা আয়োজিত ‘জুলাই: রক্তঋণের উত্তরাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা, গণতন্ত্র নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা। তিনি বলেন, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে।
জুলাইয়ের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রক্তের বিনিময়ে লেখা ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। তাঁর ভাষায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এই রক্তঋণের উত্তরাধিকার বহন করছে এবং আগামী প্রজন্মের কাছেও সেই উত্তরাধিকার পৌঁছে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় রাষ্ট্র ও ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনবে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও যদি জনগণের স্বার্থবিরোধী অবস্থান নেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি বলেন, জুলাই শুধু একটি সময় নয়, এটি একটি চেতনার নাম। সেই চেতনা ধারণ করে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি শাখার সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ানের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আলোচনা শেষে লেখা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, জাতীয় নারীশক্তির সভাপতি মনিরা শারমিন, জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম তাওহীদসহ বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।