সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে নৈতিক শিক্ষার প্রসার জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট সভাকক্ষ ‘অমিত্রাক্ষর’-এ আয়োজিত ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকেই এ ধরনের অপপ্রচার ও গুজবের জন্ম হয়। তাই এসব অপতৎপরতা প্রতিরোধে সমাজে নৈতিক শিক্ষার চর্চা ও প্রসার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা আগের তুলনায় কমে গেছে। একসময় অনেক অভিভাবক উচ্চশিক্ষিত না হলেও সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দিতেন। বর্তমানে মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও নৈতিক শিক্ষার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেই মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নয়, নৈতিক শিক্ষায়ও গড়ে তুলতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতা সৃষ্টিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মো. পারভেজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাব-ইন্সপেক্টর অলক কুমার দে, ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দু মান্নান, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন এবং সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সাইদ সান।