গত বছরের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তার অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চললেও সম্প্রতি একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখন নয়াদিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স বাংলো জোনে বসবাস করছেন।
এখানেই অবস্থিত আওয়ামী লীগের গবেষণা ও প্রচারণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (সিআরআই)-এর কার্যালয়ও।
সিআরআই শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে, শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িকে কেন্দ্র করে। তবে কার্যক্রম চলত গোপন জায়গা থেকে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং সরাসরি দিল্লি থেকেই রাজনৈতিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।
সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে সিআরআইয়ের মূল লক্ষ্য তিনটি—অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভন্ডুল করা এবং বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ গণঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করা।
প্রথম দিকে সিআরআইয়ের দায়িত্বে ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। পরবর্তীতে শেখ পরিবারের একাধিক সদস্য—রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক—এতে যুক্ত হন। এখন প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছেন শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
অভিযোগ উঠেছে, গবেষণা বা নীতি নির্ধারণ নয়, বরং সিআরআই এখন ভিন্ন কাজে ব্যস্ত। মূলত “কালচারাল ফ্যাসিস্টদের” সংগঠিত করে রাজনৈতিক মাঠে নামানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা। দেশজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে সংঘাত উসকে দিয়ে অস্থিরতা বাড়ানো এবং পরবর্তীতে বড় ধরনের কর্মসূচি, যেমন “ঢাকা অ্যাটাক” বা “যমুনা ঘেরাও”-এর মতো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে এখান থেকেই।
সবমিলিয়ে, দিল্লির লুটিয়েন্স বাংলো জোনে শেখ হাসিনার বাড়ির পাশের সিআরআই কার্যালয় এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে—যেখানে রাজনৈতিক প্রচারণা ও গুজব তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করার নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।