জনরায়কে উপেক্ষা করলে তার পরিণতি শুভ হয় না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনি জটিলতা বা রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করা উচিত।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রেজাউল করীম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল জনরায়কে অবজ্ঞা করার মাধ্যমে। একইভাবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পেছনেও জনমতের প্রতি উপেক্ষাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, জনগণের রায় অগ্রাহ্য করার ফল কখনোই ইতিবাচক হয় না।
তিনি আরও বলেন, সরকার যেন আইনি কৌশল, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বা কথার মারপ্যাঁচের আড়ালে গণভোটের রায়কে উপেক্ষা না করে। জনগণের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার রক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, জুলাই সনদে বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছিল। সেই সনদের ভিত্তিতেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি কখনোই গণভোটের বিরোধিতা করেনি। এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
তার ভাষ্য, এখন সংসদে গণভোটকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা বিএনপির রাজনৈতিক অসততার পরিচায়ক।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পরিবর্তে জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা উচিত। এতে দল, নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্র—সব পক্ষই উপকৃত হবে।
জরুরি সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক, নেহার উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।