প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাশেদ খাঁন। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তাদের কবর জিয়ারত, ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দোয়া করেন তিনি।
এ সময় রাশেদ খাঁন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার প্রতি আস্থা রেখে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে পালনের জন্য তিনি দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন।
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় থেকেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের যুগপৎ আন্দোলন, এক দফার আন্দোলন এবং পরবর্তী ছাত্র গণঅভ্যুত্থানেও তিনি রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি ও নুরুল হক নুর নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালে শুরু হওয়া কোটা আন্দোলনকে রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নেতৃত্বে এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, জীবনে এমন কোনো কাজ করেননি, যাতে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করার কারণ পান।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সমন্বয় সাধনে তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলেও দাবি করেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, সে সময় বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, নুরুল হক নুর, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরসহ অন্যদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে, সেখানে আর ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্র পুনর্গঠনের স্বার্থে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া, গণঅভ্যুত্থানের পর বিরোধী রাজনীতির সুযোগ পাওয়া কয়েকটি দল সরকারের রাষ্ট্র পুনর্গঠনের উদ্যোগ ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন।