সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
উজানে ভারতের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যেতে শুরু করায় পানিবন্দি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন শত শত পরিবার।
বিপৎসীমার ৭ সেমি ওপরে পানি
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২২ মিটার। এই পয়েন্টে পানির স্বাভাবিক বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ, পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করলেও তা বিপৎসীমার নিচেই ছিল। তবে মঙ্গলবার রাতের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বুধবার থেকে পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং বৃহস্পতিবার রাতে তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলার ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে।
নদীপাড়ের সিঁদুনা গ্রামের বাসিন্দা মোর্শেদ বলেন, “ভারী বৃষ্টির কারণে এবার পানি অনেক বেশি বেড়েছে। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি ওঠার উপক্রম হয়েছে। বন্যা হলে শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্টে পড়তে হয়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি রাখার জায়গা থাকে না। তার ওপর যোগ হয় সাপ ও পোকার আতঙ্ক। সব মিলিয়ে আমাদের নিদ্রাহীন রাত কাটছে।”
পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তিস্তার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও তীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এসব বাঁধ অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বাসিন্দাদের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো স্থায়ী কাজ না করে হাত গুটিয়ে বসে থাকে। আর বর্ষা এলেই জরুরি মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বেড়েছে। এর ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। উজানের ঢল যদি চলতেই থাকে, তবে বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।