বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের তিনদিন পর জেলেদের মধ্যে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের আল-আমিনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উদ্ধারকৃত আল-আমিন জানান, ট্রলার ডুবে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে থাকা তিনজন ট্রলারের কেবিনে আটকা পড়ে যান। আর তিনি দীর্ঘ সময় একটি ভাসমান পুলুট (ফ্লোট) আঁকড়ে ধরে সাগরে ভেসে ছিলেন।
তিনি বলেন, “অনেকক্ষণ ভেসে থাকার পর পায়ের নিচে বালির স্পর্শ পেয়ে মনে হয়েছিল তীরের কাছাকাছি চলে এসেছি। তাই পুলুট ছেড়ে উপকূলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করি। পরে বুঝতে পারি সেটি একটি ডুবোচর ছিল।
কিছু দূরে হারুন ও আকাশ ট্রলারের উল্টে থাকা তলা আঁকড়ে ধরে ছিল। তারা আমাকে বারবার কাছে যেতে ডাকছিল। কিন্তু প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। একপর্যায়ে স্রোত ও ঢেউ তাদেরও আমার কাছ থেকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
এরপর আমি আবার পুলুট আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকি। দীর্ঘক্ষণ পর ভোলার চরফ্যাশনের একটি মাছ ধরার ট্রলার আমাকে উদ্ধার করে।”
আল-আমিন আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস হারুন ভাই ও আকাশ হয়তো এখনো বেঁচে আছেন।”
এ বিষয়ে গলাচিপা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জহিরুন্নবী জানান, গলাচিপা থেকে স্পিডবোট পাঠিয়ে উদ্ধারকৃত আল-আমিনকে গলাচিপায় আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আল-আমিনের দেওয়া তথ্য ও সম্ভাব্য অবস্থানের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশ নিখোঁজ অন্য জেলেদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।