প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সমস্যা থাকবেই, তবে সেই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ একসময় বাংলাদেশের চেয়েও পিছিয়ে ছিল, কিন্তু সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা আজ অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশও আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একইভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম।
সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) সভার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান।
সভায় প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধানের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।
তিনি কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
উপ-প্রেস সচিব জানান, জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে নিয়ে এই তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে।
সভায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি করপোরেশনসহ ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনবল সংকট, আধুনিক পরীক্ষাগারের অভাব, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি এবং প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা আরও বাড়ানোরও দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এ লক্ষ্যেই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।
জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকের উদাহরণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের অনেক লেকই আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে, আর দুঃখজনকভাবে এসব আবর্জনা অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষিত মানুষই ফেলছেন। তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।