সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটি এ ঘটনার সঙ্গে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, হামলায় এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে চারজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি হামলার নিন্দা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে এ ধরনের হামলা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। তার দাবি, সমাবেশ শুরুর সময় আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং পরে মঞ্চের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা পরিকল্পিত বলে মনে হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি সমাবেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তের দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা, ককটেল হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ, হামলার নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী এবং প্রশাসনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় এনে প্রকৃত দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
বিবৃতির শেষাংশে মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।