মাহিনুর ইসলাম মাহিন, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
শখের বশে গড়ে তোলা বাগান এখন বড়লেখায় বৈচিত্র্যময় ফলচাষের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত
শখ থেকেই শুরু। সেই শখই সময়ের ব্যবধানে রূপ নিয়েছে বৈচিত্র্যময় ফলের এক অনন্য বাগানে। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম খন্দকার নিজের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেছেন ৩৭ জাতের আমসহ দেশি-বিদেশি শতাধিক ফলগাছের দৃষ্টিনন্দন একটি বাগান।
প্রতিটি গাছে রয়েছে পরিচিতিসূচক নামফলক। মৌসুমজুড়ে একের পর এক ভিন্ন জাতের ফলের সমাহারে বাগানটি এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও নজর কাড়ছে।
প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত বাগানজুড়ে শোভা পাচ্ছে নানা জাতের আম। কোথাও কাঁচা, কোথাও আধাপাকা ফল। প্রতিদিন চাকরির ব্যস্ততার ফাঁকে গাছের পরিচর্যায় সময় কাটান রেজাউল করিম।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে বাড়ির একটি টিলায় কয়েকটি আমগাছ রোপণের মাধ্যমে তার ফলচাষের যাত্রা শুরু হয়। পরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশ থেকে সংগ্রহ করেন উন্নত জাতের ফলের চারা।
বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, চেং মাই, পাকিস্তানি চোষা, সামার বেহেস্ত, ব্রুনাই কিং, আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, ন্যাম ডকমাই, সীতাভোগ, অম্বিকাসহ ৩৭ জাতের আম। এছাড়া কমলা, মাল্টা, আঙুর, ড্রাগন ফল, পেয়ারা, ডালিম, ত্বীন, নাশপাতি, স্ট্রবেরি, চেরি, পিচ, লংগান, জামরুল, কাঁঠালসহ দেশি-বিদেশি শতাধিক ফলগাছ রয়েছে।
রেজাউল করিম খন্দকার বলেন, এটি কোনো বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়; বরং তার ভালোবাসা ও শখের প্রতিফলন। একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ের বেশিরভাগই তিনি বাগানে কাটান।
পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনকে ফর্মালিনমুক্ত ও সুস্বাদু ফল উপহার দিতে পারাটাই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে দীর্ঘ খরার কারণে অনেক আম ঝরে গেছে। খরার সময় সেচের মোটর বিকল হয়ে যাওয়ায় কয়েকদিন পানি দিতে না পারায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। তবে নাচ-১, নাচ-৩, সামার বেহেস্ত, আমেরিকান কেন্ট ও আমেরিকান পালমা জাতের আমের ফলন ভালো হয়েছে। ব্রুনাই কিং জাতের একটি আম ইতোমধ্যে প্রায় দুই কেজি ওজনের হয়েছে।
গত বছর একই জাতের একটি আমের ওজন হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন কেজি। এবার সেটি পাঁচ কেজি পর্যন্ত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রেজাউল করিম আরও জানান, তার বাগানে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। নিজস্বভাবে প্রস্তুত করা জৈব সারই গাছের পুষ্টির প্রধান উৎস। ভবিষ্যতে আরও নতুন জাতের আম সংগ্রহ করে বাগানকে সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বানর ও কাঠবিড়ালের উপদ্রব বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
স্থানীয়দের মতে, বাড়ির অব্যবহৃত জায়গাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে রেজাউল করিম খন্দকার একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় অনেক তরুণ ও সৌখিন ফলচাষিকে বৈচিত্র্যময় ফলচাষে উদ্বুদ্ধ করছে।
বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, রেজাউল করিম খন্দকারের বাগানটি তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। একটি পারিবারিক বাগানে এত বৈচিত্র্যময় দেশি-বিদেশি আম ও অন্যান্য ফলের সমাহার সত্যিই প্রশংসনীয়।
তিনি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে গাছগুলোর পরিচর্যা করছেন। দেশের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে সফলভাবে ফল উৎপাদন করেছেন।
এমন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় ফলচাষে আগ্রহ সৃষ্টি করবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।