জাল ও ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ এবং সুপারিশপত্র ব্যবহারের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় কর্মরত ১৩ জন শিক্ষকের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) সুবিধা বন্ধ করেছে সরকার। একই সঙ্গে তাদের ইনডেক্স নম্বর বাতিল, সরকারি কোষাগারে উত্তোলিত বেতন-ভাতা ফেরত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও সুপারিশপত্র জাল বা ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬’-এর ১৮.১ (গ) ও (ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এমপিও সুবিধা বাতিল হওয়া ১৩ শিক্ষক হলেন— মো. নুরুজ্জামান (গোলকপুর সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসা, সিরাজগঞ্জ), মো. মাহবুব রশিদ (তারাগঞ্জ ওয়াকফ এস্টেট কামিল মাদ্রাসা, রংপুর), মো. আব্দুর রহমান ও মো. মাসুম বিল্লাহ (বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসা, পিরোজপুর), মো. হারুনুর রশিদ (নেওয়াশী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কুড়িগ্রাম), করিমা খাতুন (মল্লিকেরবেড় ফাজিল মাদ্রাসা, বাগেরহাট), বিশ্বজিৎ সমাদ্দার (পাতাখালি ফাজিল মাদ্রাসা, সাতক্ষীরা), শহীদুল হক (পাঁচখুবী আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, কুমিল্লা), মো. রোকনুজ্জামান (বেলাশী মদিনাতুল উলুম বালিকা আলিম মাদ্রাসা, গাজীপুর), জালাল উদ্দিন (সাতবাড়ীয়া শাহ আমানত (র.) দাখিল মাদ্রাসা, ঢাকা), হাসিনা (বড়িবাড়ী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, গাজীপুর), মো. মাহফুজুর রহমান (একডালা আউয়ালিয়া বালিকা আলিম মাদ্রাসা, গাজীপুর) এবং নাসরিন সুলতানা (শেখেরগাঁও জামিউল উলুম সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা, নরসিংদী)।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা এ পর্যন্ত বেতন-ভাতা হিসেবে সরকারের কাছ থেকে যে অর্থ উত্তোলন করেছেন, তা দ্রুত সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।