শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন বারোদুয়ারি হাটের সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণ করা ছয়টি পাকা দোকানঘর উচ্ছেদ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে পাঁচটি ঘর নির্মাণাধীন ছিল এবং একটি প্রায় তিন মাস আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযানে এস্কেভেটর দিয়ে সবগুলো ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
রোববার (২৮ জুন) বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত পৌর কর্তৃপক্ষ এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান, পৌরসভার কর্মকর্তা এবং শেরপুর থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের একটি খালি জায়গায় প্রায় ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থজুড়ে ইটের দেয়াল গেঁথে পাঁচটি দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছিল। সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে তারা কাজ করছিলেন। তবে অর্থদাতার পরিচয় জানাতে পারেননি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নির্মাণাধীন ঘরগুলোর পাশেই প্রায় তিন মাস আগে মো. আজাহার নামের এক ব্যক্তি একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেন। তাঁর ছেলে আকাশ দাবি করেছিলেন, সরকারিভাবে লিজ নিয়ে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে লিজের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, আগে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ছোট দোকান তুলতে গেলেও পৌরসভা তা ভেঙে দিত। অথচ প্রভাবশালীরা সরকারি জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করলেও দীর্ঘ সময় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এর আগে বিষয়টি নিয়ে পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে ভিন্নমত দেখা দেয়। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, হাটের জমির মালিক জেলা প্রশাসক হওয়ায় বিষয়টি ভূমি অফিসের তদারকির আওতায় পড়ে। অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেছিলেন, জেলা প্রশাসন হাটের দায়িত্ব পৌরসভার কাছে দেওয়ায় জায়গা রক্ষার দায়িত্বও তাদের।
অভিযান শেষে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, পৌরসভার অনুমতি ছাড়া সরকারি জায়গায় নির্মিত সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা হলে একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।