কুমিল্লা নগরের কাটাবিল এলাকায় মাদক কারবারীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। আহত ইথান আহম্মেদ প্রেম (১২) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পিঠে গুলি লেগে ফুসফুস পর্যন্ত আঘাত করেছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে আহত শিক্ষার্থীর পরিবারের খোঁজ নিতে কাটাবিল এলাকায় যান কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। সেখানে শিক্ষার্থীর মায়ের কান্না দেখে তিনি কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ারকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমরা সবাই তাদের (মাদক ব্যবসায়ীদের) কাছে সারেন্ডার করে চলে যাই। আর না হয় কিছু একটা করেন। মাদক ব্যবসায়ী থাকবে, একজন স্কুলছাত্র স্কুলে যেতে পারবে না, তারপর আপনি ওসি থাকবেন, আমি এমপি থাকব—এটা ঠিক না।”
এ সময় তিনি বলেন, মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীর মা সোনিয়া আক্তার জানান, এলাকায় অপু ও সাব্বির নামের দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার টিফিনের সময় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়।
তিনি বলেন, “আমার একমাত্র ছেলে। তার কিছু হলে আমি কী নিয়ে বাঁচব।”
পরে রাতে সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। বৈঠকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বজলুর রহমান, পাবলিক প্রসিকিউটর কাইমুল হক রিংকুসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে এমপি বলেন, “মাদকের প্রতিবাদ করতে গিয়ে একজন স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জনগণ আমাকে নির্বাচিত করেছে, তাদের কাছে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে।”
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকবিরোধী মানববন্ধন করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মানববন্ধন চলাকালে অস্ত্রধারী কয়েকজন মাদক কারবারী এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে ইথান আহম্মেদ প্রেমসহ অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হন।
স্থানীয়রা আহত প্রেমকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালাচ্ছেন।