মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তুরস্কসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (২২ জুন) ঢাকায় তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ড. ফাতমা মেরিচ ইয়িলমাজের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকগুলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুকে আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা দেশের ওপর মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।
তিনি এ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে তুরস্কের কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ড. ফাতমা মেরিচ ইয়িলমাজ বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সংস্থাটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি রোহিঙ্গা সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তুর্কি রেড ক্রিসেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে তাদের ধারাবাহিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং মানবিক ইস্যুতে বাংলাদেশ-তুরস্ক সহযোগিতার অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে।