পটুয়াখালীর গলাচিপায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে গলাচিপা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী-গলাচিপা আঞ্চলিক সড়কের আমখোলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ কয়েকজন তরুণ সড়কে অবস্থান নিয়ে একটি সেতুর ওপর দুটি টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা ‘পুলিশ হত্যার বিচার চাই’ লেখা ব্যানার বহন করে প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট সড়কে অবস্থান করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষোভকারীদের ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথাও তারা উল্লেখ করেন।
ঘটনার দুই মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ‘প্রত্যাবর্তন-২.০’, ‘আলো আসবেই’ এবং ‘পুলিশ হত্যার বিচার চাই’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। এছাড়া ব্যানারে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের পরিচয়ে রুবেল গাজীর নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণরা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও রুবেল গাজীর অনুসারী। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের দরিবাহেরচর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে মো. ইমরান হোসেন (১৯), উত্তর আমখোলা গ্রামের গফুর খানের ছেলে জাহিদ খান এবং গলাচিপা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামবাগ এলাকার জালাল আহমেদের ছেলে সালে আহমেদ শান্ত।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমখোলা গলাচিপা উপজেলার অপেক্ষাকৃত বিচ্ছিন্ন এলাকা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।