মো. হোসেন, মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মেধাবী শিক্ষার্থী আফিফা সিদ্দিকা হুমাইরা প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এর অঙ্ক দৌড় প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে গৌরব বয়ে এনেছে। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থান অর্জনের পর জাতীয় আসরেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আলোচনায় এসেছে দশ বছরের এই শিক্ষার্থী।
সোমবার (১৫ জুন) অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় দেশের আট বিভাগের আটজন সেরা প্রতিযোগীর মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে আফিফা। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) প্রদান করেন শিক্ষা মন্ত্রী ।
আফিফা চর ফয়েজউদ্দিন গোমাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলামের কন্যা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতার প্রাথমিক ধাপে ইউনিয়ন পর্যায়ে অংশ নিয়ে উপজেলার ১৬টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন আফিফা। পরে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত পাঁচজন প্রতিযোগীর মধ্যেও তিনি প্রথম হন।
এরপর গত ৭ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ভোলার সাতটি উপজেলার প্রতিনিধিদের মধ্যে সেরা হয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ৯ জুন বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ছয় জেলার ছয়জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে আবারও প্রথম স্থান লাভ করেন তিনি। ধারাবাহিক এই সাফল্যের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান আফিফা।
জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জনের খবরে মনপুরাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার এ অর্জনকে উপজেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
চর ফয়েজউদ্দিন গোমাতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউনুস বলেন, “আফিফা শুরু থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। তার এই অর্জনে বিদ্যালয় পরিবার গর্বিত। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।”
হাজিরহাট সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “মনপুরার মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীর জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য প্রমাণ করে, উপযুক্ত সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে গ্রামের শিক্ষার্থীরাও দেশসেরা হতে পারে। আফিফার এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, আফিফার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি মনপুরার শিক্ষা অঙ্গনের জন্যও একটি গর্বের বিষয়। তার এই কৃতিত্ব উপজেলার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।