মোঃ তাজুল ইসলাম, (সুবর্ণচর) প্রতিনিধি;
নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় চর জুবিলী রব্বানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণির বোর্ড রেজিষ্ট্রেন কার্যক্রমে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বোর্ড নোটিশে প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৭৪টাকা মাত্র ফি নির্ধারিত থাকলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রতি শিক্ষার্থী থেকে ৩০০টাকা করে কোন প্রকার রশিদ ছাড়া আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় সুবর্ণচর উপজলার জুবলি রব্বানিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কর্তৃক ৮ম শ্রেণির রেজি: কার্যক্রমে ৩০০টাকা করে কোন প্রকার রশিদ ছাড়া গ্রহন করেছেন।এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ ক্ষোভে ফঁসে উঠলেও ভয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না।
সরেজমিন তদন্ত করে আমরা কয়েকজন ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সাথে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের বিষয়ে কথা বললে তারা আমাদেরকে জানান আমাদের কাছ থেকেও ৩০০ টাকা করে রেজিস্ট্রেশন ফ্রি নিয়েছেন। তারা হলেন,আজগর হোসেন ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী,পুর্ণিমা আক্তার -৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী, রিয়ামনি –
৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এই বিষয়ে অত্র মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোঃ শামসু উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান অষ্টম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে,আমার নিকট রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ কালেকশন এর সকল টাকা আমি অত্র মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি আমার কাছে তার রিসিভিং কপি সংরক্ষিত আছে।
এবিষয়ে অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান এটা মিথ্যা বানোয়াট আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আপনি সরাসরি আসুন আমি বিস্তারিত দেখাবো,
সুবর্ণচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব শামীমা আক্তার কাছে মুঠোফোনে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফ্রি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে
তিনি বলেন আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ আসে নাই যদি অভিযোগ পাই সত্যতা যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।
সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আকিব ওসমান বলেন- চর জুবিলি রব্বানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষার্থী থেকে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ বিষয়ে একটা দরখাস্তের অনুলিপি পেয়েছি, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ থেকে নির্দেশনা ফেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও চর জুবিলী রব্বানিয়া মাদ্রাসার সভাপতি জনাব তাসলিমুন নেছা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রী থেকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়ের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে উনাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষের উপযুক্ত বিচার চেয়েছেন, এবং এলাকাবাসীর দাবি অর্থলোভী ছাত্র-ছাত্রীর উপর জুলুমকারী অত্র মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার কোন অধিকার নেই আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।