পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন রাবনাবাদ নদীর ভয়াবহ ভাঙনে আন্তঃজেলা হাইওয়ে সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান নদীভাঙনের কারণে এলাকার শত শত বসতবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অচিরেই আন্তঃজেলা সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিকল্পিত নদী শাসন ও টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে প্রতি বর্ষা মৌসুমে রাবনাবাদ নদীর জোয়ারের প্রবল স্রোত ডাকুয়া ইউনিয়নের তেঁতুলতলা অংশ এলাকায় ভাঙনের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বছরের পর বছর ধরে নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনবসতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে শত শত বসতঘর, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিখ্যাত ব্যক্তিদের সমাধিস্থল, হাজার হাজার একর কৃষিজমি এবং আন্তঃজেলা হাইওয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা যেমন হুমকির মুখে পড়েছে, তেমনি যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নদী শাসন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়বে, অন্যদিকে গলাচিপার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দশমিনা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ আন্তঃজেলা হাইওয়ে সড়ক দিয়ে চিকনিকান্দী, কলাগাছিয়া ও বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। পাশাপাশি দশমিনা হয়ে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষিখাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডাকুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হাসান হাওলাদার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তেঁতুলতলা এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। বহুবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। জিওব্যাগ ফেলে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন রোধ করা যায়নি। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হলে একসময় ডাকুয়া ইউনিয়নের অনেক গ্রাম মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে।”
স্থানীয়রা আরও জানান, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অস্বাভাবিক জোয়ারের সময় আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। বেড়িবাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ায় জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে ফসল ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করছে।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করছি, বিধি মোতাবেক দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নদীভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনার আওতায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং সুপরিকল্পিত নদী শাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার দ্রুত এ অঞ্চলের মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।