বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের হামলায় নিখোঁজ হওয়া শিশু ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে স্থানীয়রা দিঘি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
এর আগে সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজারসংলগ্ন দিঘির নারীদের ঘাটে গোসল করতে নামলে কুমিরটি ৭ বছর বয়সী ফাতেমাকে টেনে নিয়ে যায়। নিহত ফাতেমা আক্তার মাজার এলাকায় অবস্থানকারী এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও শিশুটি ঘাটে নামার সঙ্গে সঙ্গেই কুমির তাকে পানির নিচে টেনে নেয়। ফাতেমার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ইট ছুড়ে ও পানিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে কুমিরটি দ্রুত তাকে দিঘির গভীরে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও স্বেচ্ছাসেবীরা রাতভর উদ্ধার অভিযান চালান।
ঘাটসংলগ্ন এক দোকানি জানান, ফাতেমা প্রায়ই ওই ঘাটে গোসল করতে আসত। সেদিনও গোসলের জন্য পানিতে নামার মুহূর্তেই কুমির তাকে আক্রমণ করে।
ঘটনার পর বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী বা ফেন্সিং নির্মাণের কথাও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল একই দিঘি থেকে একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে। ঐতিহাসিক এই দিঘিতে বহু বছর ধরে কুমির রয়েছে। তবে বর্তমানে থাকা কুমিরটি হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর সময়কার কুমিরের বংশধর নয়। ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কয়েকটি কুমিরের মধ্যে বর্তমানে একটি মাত্র কুমির জীবিত রয়েছে।