পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন, খুব শিগগিরই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরেক দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়ার পর রোববার (২৪ মে) তিনি এ মন্তব্য করেন।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভবিষ্যতে ইসলামাবাদ আলোচনার স্থান হতে পারে ঠিকই, কিন্তু এত বড় পর্যায়ের বৈঠকের জন্য এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি শুরু হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, চীনে চার দিনের সফরকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পেয়েছেন। সেই আলোচনা পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, তারা এ ধরনের কোনো ইঙ্গিত সম্পর্কে অবগত নয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন এবং এখনো এ ধরনের বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে না। তার মতে, পরবর্তী দফার সংলাপ খুব দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, শাহবাজ শরিফ চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পর সরকার নতুন দফার আলোচনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে আলোচনা কবে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এর আগে এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান সফর করেন এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘অসাধারণ প্রচেষ্টা’র জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের সঙ্গে হওয়া ফলপ্রসূ টেলিফোন আলাপের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং তার নিরলস প্রচেষ্টার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। এছাড়া বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শাহবাজ আরও বলেন, পাকিস্তান আন্তরিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং খুব দ্রুত পরবর্তী দফার আলোচনা আয়োজনের আশা করছে।
এদিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব এবং সংলাপ ও কূটনীতির প্রতি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, এই আলোচনা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসহাক দার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতাদের ধারাবাহিক যোগাযোগেরও প্রশংসা করেন।
সূত্র: দ্য ডন
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?