মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের সময় ইরাকেও গোপনে বিমান হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব ও কুয়েত

ইরান যুদ্ধের সময় ইরাকে তেহরান-সমর্থিত শক্তিশালী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান। একইসঙ্গে কুয়েত থেকেও ইরাকে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এসব হামলা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের সময় চালানো এসব হামলা রাখা গোপন হয়েছিল। […]

ইরান যুদ্ধের সময় ইরাকেও গোপনে বিমান হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব ও কুয়েত

ইরান যুদ্ধের সময় ইরাকেও গোপনে বিমান হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব ও কুয়েত

নিউজ ডেস্ক

১৪ মে ২০২৬, ১০:৩৮

ইরান যুদ্ধের সময় ইরাকে তেহরান-সমর্থিত শক্তিশালী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান। একইসঙ্গে কুয়েত থেকেও ইরাকে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

এসব হামলা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের সময় চালানো এসব হামলা রাখা গোপন হয়েছিল।

এই প্রতিবেদনের জন্য রয়টার্স ইরাকের তিন নিরাপত্তাজন ও সামরিক কর্মকর্তা এবং একজন পশ্চিমা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে। পাশাপাশি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও দুজনের সঙ্গেও কথা হয়েছে, যাদের একজন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত অপর একজন ব্যক্তি জানান, সৌদির উত্তর সীমান্তে ইরাকসংলগ্ন এলাকায় ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল সৌদি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান। ওই পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, ৭ এপ্রিল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সময়েই কয়েকটি হামলা চালানো হয়েছিল।

সূত্রগুলো জানায়, যেসব স্থান থেকে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছিল, মূলত সেই স্থানগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

সামরিক মূল্যায়নের বরাত দিয়ে ইরাকি সূত্রগুলো জানিয়েছে, কুয়েতে ভূখণ্ড থেকে অন্তত দুবার ইরাকে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলে দক্ষিণ ইরাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থানে চালানো একদফা হামলায় বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হন। এতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়িব হিজবুল্লাহ-র যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত একটি স্থাপনাও ধ্বংস হয়ে যায়।

কুয়েত থেকে ছোড়া রকেটগুলো কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী নাকি সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী ছুড়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয় ও ইরাক সরকারের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরানেও হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির স্বার্থে পরিস্থিতি শান্ত রাখা, সংযম প্রদর্শন ও উত্তেজনা হ্রাসের পক্ষে। তবে ইরাকে হামলার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ইরাকের কাতায়িব হিজবুল্লাহর একজন মুখপাত্রও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।

মঙ্গলবার রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, যুদ্ধের সময় সৌদি আরবের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে রিয়াদ সরাসরি ইরানে হামলা চালিয়েছে। ইতিহাসে এবারই প্রথম রিয়াদের ইরানি ভূখণ্ডে আঘাত করার খবর জানা গেল। এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট তিনজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতও একইভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে।

তবে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া শত শত ড্রোন ইরাক থেকেই পাঠানো হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছে সংশ্লিষ্ট সবকটি সূত্র।

যুদ্ধ চলাকালে ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে একাধিকবার বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছিল, সৌদি আরব ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

ইরাকের দ্বিতীয় ফ্রন্ট এই লাগাতার হামলায় কার্যত ধৈর্য হারায় সৌদি আরব ও কুয়েত। কারণ, ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে সব মিলিয়ে হাজার হাজার যোদ্ধা এবং ড্রোন ও মিসাইলের মতো বিপুল অস্ত্রভান্ডার রয়েছে।

সীমান্ত পেরিয়ে লাগাতার হামলা এবং ৭ এপ্রিল বসরা শহরে কুয়েতের কনস্যুলেটে হামলার প্রতিবাদ জানাতে যুদ্ধের সময় কুয়েত তিনবার ইরাকি প্রতিনিধিকে তলব করে। সৌদি আরবও হামলার প্রতিবাদ জানাতে ১২ এপ্রিল ইরাকি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল।

সন্দেহ ও অবিশ্বাসে ঘেরা ইরাক-উপসাগরীয় সম্পর্ক

উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরাকের সম্পর্কের সমীকরণ বরাবরই পারস্পরিক সন্দেহের উপর দাঁড়িয়ে। ১৯৯০ সালে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী কুয়েত আক্রমণ করে এবং সৌদি আরবে ‘স্কাড’ মিসাইল ছোড়ে। ওই ঘটনার পর থেকেই দেশগুলোর সম্পর্কে গভীর ফাটল ধরে, যা কয়েক দশক ধরে অব্যাহত ছিল।

২০০৩ সালে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে আগ্রাসন চালানোর পরে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়ে। ওই অভিযানের জেরে তেহরান-ঘনিষ্ঠ শিয়া রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এতে এ অঞ্চলে ইরাক হয়ে ওঠে ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

উপসাগরীয় দেশগুলো বারবার অভিযোগ করে আসছে, ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বাগদাদ। গোষ্ঠীগুলো কার্যত স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম চালায় এবং সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন দেশে হামলা করে।

২০২৩ সালে চিনের মধ্যস্থতায় ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে বরফ গলে। ফলে বৃহত্তর ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরার আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সেই কূটনৈতিক সাফল্য এখন চরম পরীক্ষার সামে।

ইরাকের দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও একজন সরকারি নিরাপত্তা উপদেষ্টা জানান, মার্চে সৌদি আরব ও কুয়েত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাগদাদকে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর রকেট ও ড্রোন হামলা বন্ধের জন্য সতর্ক করেছিল।

ইরাকি বাহিনী জানিয়েছে, তারা কিছু হামলার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে। এর মধ্যে বসরার পশ্চিমে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার উদ্দেশ্যে রাখা একটি রকেট লঞ্চার জব্দের ঘটনাও রয়েছে।

তবে ইরাকি নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র এবং এ বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি জানান, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কুয়েত ও সৌদি আরবের সঙ্গে ইরাক সীমান্তে নজরদারি ড্রোন ওড়ানো অব্যাহত রেখেছে। তারা মূলত এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে এবং সেই গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে।

এ বিষয়ে অবগত ওই ব্যক্তি বলেন, ‘হামলায় কোথায় কতটা ক্ষতি হয়েছে, কোন অবকাঠামো এখনও সচল রয়েছে—মূলত সেসব তথ্যই সংগ্রহ করছে তারা। পরবর্তী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।’

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৮

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৮

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৮

আন্তর্জাতিক

তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকাল সকাল বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। তিনি এখনো পদত্যাগ না করায় আন্দোলনও বেগবান হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সকাল নতুন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, […]

তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকাল সকাল বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৮

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। তিনি এখনো পদত্যাগ না করায় আন্দোলনও বেগবান হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল সকাল নতুন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং এ বিচার হবে দ্রুত বিচার আদালতে।

ফেসবুকে মোদি লিখেছেন, “আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না! প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগগুলোরই অংশ এটি।”

“যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১১৮