বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ইতিহাসের দেয়াল ভেঙে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

দীর্ঘ কয়েক দশকের দূরত্ব ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর এবার নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ঢাকায় স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ তদন্ত ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের […]

নিউজ ডেস্ক

১১ মে ২০২৬, ১১:২৫

দীর্ঘ কয়েক দশকের দূরত্ব ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর এবার নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ঢাকায় স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ তদন্ত ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শ্রীলঙ্কান অনলাইন নিউজ ওয়েবসাইট শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান এক নিবন্ধে বলেছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্যে স্বীকৃত দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠল।

গত শুক্রবার (৮ মে) ঢাকায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। আর এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি মাদকবিরোধী ও মানবপাচারবিরোধী সহযোগিতা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও চুক্তির পরিধি সাধারণ আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার চেয়ে অনেক বিস্তৃত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও আঞ্চলিক বিশ্লেষকেরা।

চুক্তির মূল বিষয় হচ্ছে— দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে আনুষ্ঠানিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর আওতায় গোপন তথ্য আদান-প্রদান, তদন্ত কার্যক্রমে সমন্বয় এবং নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির কথা বলা হয়েছে, যাতে দুই দেশের সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতা ১৯৭১ সালের পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন। স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত যোগাযোগ ও নানা টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। এই কাঠামোয় দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে মাদক পাচার, আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছে।

এতে ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অবৈধ চালান অনুসরণ ও নজরদারি করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পাকিস্তানের অ্যান্টি-নারকোটিক্স ফোর্সের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী চুক্তিতে এ ধরনের বিষয় সাধারণ হলেও, স্থায়ী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও গোপন অপারেশনাল সমন্বয়ের বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি কার্যত দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর নিরাপত্তা সমন্বয়ের ভিত্তি তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলোর গোয়েন্দা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা কৌশলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া চুক্তির সময়টিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার অপসারণের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা ও বাণিজ্যপথে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই পরিবর্তনের দিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলো নিবিড় নজর রেখেছে।

এই চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তিত জোট রাজনীতিরও প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বহিরাগত কৌশলগত স্বার্থ এখন ক্রমেই একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বহু বছর ধরে সীমিত যোগাযোগ ও ঐতিহাসিক উত্তেজনার মধ্যে আটকে থাকলেও, নতুন এই সমঝোতা দুই দেশের সম্পর্কে ধীরে হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উষ্ণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একে আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, মাদক পাচার ও চোরাচালান নেটওয়ার্ক রাজনৈতিক ইতিহাস মানে না, বরং সীমান্ত পেরিয়ে সক্রিয় থাকে।

তবে সমঝোতা স্মারকে যেভাবে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে, তাতে এটি শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় চুক্তির প্রভাব ঘোষিত উদ্দেশ্যের বাইরেও যেতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি মাদক ও মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ, তবে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা ও যৌথ তদন্ত কাঠামো ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত নিরাপত্তা সহযোগিতার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা সহযোগিতার এটি একটি বিরল উদাহরণ। স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা দীর্ঘদিন দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা যোগাযোগ সীমিত রেখেছিল।

পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলো এখন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার দিকে বেশি ঝুঁকছে।

তবে এই চুক্তির কৌশলগত প্রভাব এখনও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ ভারতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে পাকিস্তান-বাংলাদেশ নিরাপত্তা সহযোগিতার পুনরুত্থান নতুন এক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

এখন পর্যন্ত দুই দেশই এই চুক্তিকে সীমিত ও কারিগরি সহযোগিতা হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু এর গুরুত্ব শুধু ঘোষিত উদ্দেশ্যে নয়, বরং দীর্ঘদিন ইতিহাসনির্ভর সম্পর্কে আটকে থাকা দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা সংলাপ পুনরায় চালুর মধ্যেও নিহিত।

এমন অবস্থায় এই কাঠামো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে এটি আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে আরও বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নেয় কি না সেটাই এখন নজরে থাকবে।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।