মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ইতিহাসের দেয়াল ভেঙে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

দীর্ঘ কয়েক দশকের দূরত্ব ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর এবার নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ঢাকায় স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ তদন্ত ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের […]

নিউজ ডেস্ক

১১ মে ২০২৬, ১১:২৫

দীর্ঘ কয়েক দশকের দূরত্ব ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর এবার নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সম্প্রতি ঢাকায় স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ তদন্ত ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শ্রীলঙ্কান অনলাইন নিউজ ওয়েবসাইট শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান এক নিবন্ধে বলেছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে প্রকাশ্যে স্বীকৃত দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠল।

গত শুক্রবার (৮ মে) ঢাকায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের একটি কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। আর এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি মাদকবিরোধী ও মানবপাচারবিরোধী সহযোগিতা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও চুক্তির পরিধি সাধারণ আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার চেয়ে অনেক বিস্তৃত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও আঞ্চলিক বিশ্লেষকেরা।

চুক্তির মূল বিষয় হচ্ছে— দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে আনুষ্ঠানিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর আওতায় গোপন তথ্য আদান-প্রদান, তদন্ত কার্যক্রমে সমন্বয় এবং নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির কথা বলা হয়েছে, যাতে দুই দেশের সংস্থাগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতা ১৯৭১ সালের পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন। স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত যোগাযোগ ও নানা টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। এই কাঠামোয় দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে মাদক পাচার, আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছে।

এতে ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’ নামে পরিচিত একটি পদ্ধতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অবৈধ চালান অনুসরণ ও নজরদারি করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পাকিস্তানের অ্যান্টি-নারকোটিক্স ফোর্সের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী চুক্তিতে এ ধরনের বিষয় সাধারণ হলেও, স্থায়ী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও গোপন অপারেশনাল সমন্বয়ের বিষয়টি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাদের মতে, এই চুক্তি কার্যত দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর নিরাপত্তা সমন্বয়ের ভিত্তি তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলোর গোয়েন্দা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা কৌশলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া চুক্তির সময়টিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার অপসারণের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা ও বাণিজ্যপথে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই পরিবর্তনের দিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলো নিবিড় নজর রেখেছে।

এই চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তিত জোট রাজনীতিরও প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও বহিরাগত কৌশলগত স্বার্থ এখন ক্রমেই একে অপরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বহু বছর ধরে সীমিত যোগাযোগ ও ঐতিহাসিক উত্তেজনার মধ্যে আটকে থাকলেও, নতুন এই সমঝোতা দুই দেশের সম্পর্কে ধীরে হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উষ্ণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একে আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, মাদক পাচার ও চোরাচালান নেটওয়ার্ক রাজনৈতিক ইতিহাস মানে না, বরং সীমান্ত পেরিয়ে সক্রিয় থাকে।

তবে সমঝোতা স্মারকে যেভাবে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে, তাতে এটি শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় চুক্তির প্রভাব ঘোষিত উদ্দেশ্যের বাইরেও যেতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি মাদক ও মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ, তবে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা ও যৌথ তদন্ত কাঠামো ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত নিরাপত্তা সহযোগিতার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা সহযোগিতার এটি একটি বিরল উদাহরণ। স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা দীর্ঘদিন দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা যোগাযোগ সীমিত রেখেছিল।

পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা এবং মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলো এখন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার দিকে বেশি ঝুঁকছে।

তবে এই চুক্তির কৌশলগত প্রভাব এখনও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ ভারতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে পাকিস্তান-বাংলাদেশ নিরাপত্তা সহযোগিতার পুনরুত্থান নতুন এক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

এখন পর্যন্ত দুই দেশই এই চুক্তিকে সীমিত ও কারিগরি সহযোগিতা হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু এর গুরুত্ব শুধু ঘোষিত উদ্দেশ্যে নয়, বরং দীর্ঘদিন ইতিহাসনির্ভর সম্পর্কে আটকে থাকা দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা সংলাপ পুনরায় চালুর মধ্যেও নিহিত।

এমন অবস্থায় এই কাঠামো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে এটি আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে আরও বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নেয় কি না সেটাই এখন নজরে থাকবে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।