‘একটা ঘর নাই, বৃষ্টি হলে একটা মাথা দেওয়ার জায়গা নাই। আমাদের কষ্টে ফলানো ধান পানিতে নষ্ট হয়েছে গেছে’- কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে কাছে পেয়ে আক্ষেপের সুরে এমনটাই বলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর মেদির হাওর এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। এসময় পানিতে তলিয়ে নষ্ট হওয়া ধান হাতে নিয়ে মন্ত্রীর কাছে ছুটে আসেন আরও কয়েকজন।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর মেদির হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরিস্থিতি পরিদর্শনে গেলে এই দৃশ্য দেখা যায়।
এসময় কৃষকদের আশ্বাস দিয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের পাশে সরকার আছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহযোগিতার তহবিল বাড়ানো হবে। ধান ফলাতে কৃষকদের অনেক কষ্ট করতে হয়।
আমি নিজেও একজন কৃষক। আমার ধান এভাবে পানিতে পচে গেলে আমিও সেই কষ্ট বুঝতে পারতাম।
এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের কষ্টের কথা শোনেন ও সরেজমিনে অবলোকন করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
এছাড়াও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সহায়তার আওতায় আনতে নির্ভুল তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
হাওর পরিদর্শন শেষে বিকালে স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে মন্ত্রী উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের নিহত কৃষক আহাদ মিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী দেওয়া আর্থিক সহযোগিতার নগদ ২ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক কৃষক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন।
এদিকে, অনুকূল আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত না থাকায় মেদির হাওর ও আশপাশের জলাভূমিতে পানির স্তর কিছুটা কমেছে। তলিয়ে যাওয়া ধানক্ষেত ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
আবহাওয়ার উন্নতির কারণে কৃষকরা কাটা ধান শুকানোর সুযোগও পাচ্ছেন। তবে এখনো বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে থাকায় ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।