পটুয়াখালী,প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর বাজারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর রাতে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বেল্লাল নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। চান্দিনা ভিটির কোনো ডিসিআর (DCR) বা বৈধ অনুমতি না থাকলেও পুরাতন দোকান মেরামতের অজুহাতে এই অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এদিকে, ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিপুর বাজারের ব্যবসায়ী বেল্লাল তার পুরাতন দোকান মেরামতের কথা বলে মূল নকশা পরিবর্তন করে অধিক উচ্চতায় নতুন ঘর নির্মাণ শুরু করেন। কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও সরকারি জমিতে এই নির্মাণকাজ চলে। নির্মাণ শুরুর পর থেকেই বিষয়টি মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে জানানো হয় এবং তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে বাঁধাও প্রদান করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং স্থানীয় মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। তবে সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে কাজ চালিয়ে ঘর নির্মাণ সম্পন্ন করে ওই চক্র।
সরকারি জমি এভাবে দখলের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের যোগসাজশ ছাড়া এমন কাজ সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই অবৈধ নির্মাণে মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বা ইউপি চেয়ারম্যানের কোনো ধরনের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেই।
ব্যবসায়ী বেল্লালের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে ভুল বার্তা যাচ্ছে, যা সরাসরি তহশিল অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
এ বিষয়ে মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,“বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জানানো হয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন মহিপুরের সাধারণ ব্যবসায়ীরা।