মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল আসছেন, চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়

আব্দুল্লাহ আল মামুন , টাঙ্গাইলঃ প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঙ্গলবার(১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল আসছেন। এদিন তিনি টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধন ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন এবং নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একদিকে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ও নববর্ষের আবহ, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন- সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল জুড়ে […]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল আসছেন, চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০৫

আব্দুল্লাহ আল মামুন , টাঙ্গাইলঃ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঙ্গলবার(১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল আসছেন। এদিন তিনি টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধন ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন এবং নানা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। একদিকে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ও নববর্ষের আবহ, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন- সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল জুড়ে এখন সাজ সাজ রব এবং উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। টাঙ্গাইলে বইছে দ্বিগুণ আনন্দের জোয়ার। 

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে বিশাল মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। এদিন তিনি স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন। এরপর শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত ‘কৃষি মেলা’র উদ্বোধন ও কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এবং জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। 

সরেজমিনে দেখাগেছে, প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য টাঙ্গাইলে দুটি হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, কৃষি মেলা প্রাঙ্গণ এবং মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার এলাকাকে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামক বাসযোগে সড়ক পথে টাঙ্গাইলে আসার সম্ভাবনা বেশি। 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সমাবেশস্থল পরিদর্শন ও কাজের অগ্রগতি দেখতে যান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশের প্রায় সত্তরভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হলেই দেশ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য ও অধিকার পান- এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। 

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় দিনটি দ্বিগুণ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, অন্যদিকে দেশের প্রথম কৃষক কার্ড কর্মসূচির যাত্রা- যা টাঙ্গাইলসহ সারা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি স্থানে ‘প্রি-পাইলটিং’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পাইলটিং ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল-২(গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার প্রমুখ। 

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত জেলার সর্বস্তরের মানুষ। টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি- পরিত্যক্ত এয়ারপোর্টটি পুনরায় চালু করা এবং যমুনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। কৃষক সমাবেশে প্রিয় নেতার মুখ থেকে এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আশাব্যঞ্জক ঘোষণার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন জেলাবাসী। শহিদ মারুফ স্টেডিয়াম, কৃষি মেলা, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারসহ শহরজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ। স্টেডিয়ামে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চার স্তুরের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। তারা বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। 

প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাও। জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ ও শফিকুর রহমান খান জানান, টাঙ্গাইলকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত, শহরের পরিত্যাক্ত এয়ারপোর্ট চালু, যমুনা নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ, ভাসানী হল পুনঃনির্মাণ, সরকারি সা’দত কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি সহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নানা দাবি জানানো হবে।  

জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন জানান, টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার গোড়াই থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করা হবে। তারা খুব আনন্দিত। ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে যাচ্ছে টাঙ্গাইল।

সফরসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে প্রথমে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। সাড়ে ১০টায় জেলা স্টেডিয়ামেট কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘প্রি পাইলটিং’ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সেখানে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি। ভাষণ শেষে পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের মোট এক হাজার ৪৭০ জন ‘কৃষক কার্ড’ পাচ্ছেন। এরমধ্যে একশ’ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকবেন। আর ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রথানমন্ত্রী সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড তুলে দিবেন।

এদিকে, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিচ্ছে না প্রশাসন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় কাজ করছে। সব মিলিয়ে নববর্ষের প্রথম প্রভাতে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত টাঙ্গাইল।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।