বিএনপি সরকারের পতন প্রসঙ্গে কর্নেল অলি আহমেদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় একাধিক অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
সোমবার (৩ আগস্ট) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, অতীতে গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে পরিচিত মাসুদ করিমের সঙ্গে কর্নেল অলি আহমেদের সম্পর্ক ও লেনদেনের বিষয়টি তিনি সামনে এনেছেন, যা নিয়ে অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
পোস্টে রাশেদ খান লেখেন, কর্নেল অলি আহমেদ যদি সত্যিই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন, তাহলে তিনি যেন প্রকাশ্যে জানান যে মাসুদ করিমের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার সমালোচনার জবাবে কর্নেল অলি আহমেদ তার বাবা-মাকে নিয়ে ‘অপমানজনক মন্তব্য’ করেছেন। এরপরও তিনি কর্নেল অলিকে সম্মান দেখিয়েই জবাব দিচ্ছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।
রাশেদ খান আরও দাবি করেন, তাকে ‘র’ ও মোসাদের এজেন্ট বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে তার ভাষ্য, তিনি দীর্ঘ সময় আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, আর সে সময় কর্নেল অলি আহমেদ ক্ষমতাসীন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আপস করে বিরোধী দলের আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিলেন।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, কর্নেল অলি আহমেদ বিএনপির কাছে বেশি আসন দাবি করেছিলেন, যা জামায়াতের অনুকূলে যেতে পারত। বিএনপি বিষয়টি তদন্ত করে সেই দাবি মেনে নেয়নি বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।
পোস্টে নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়েও কথা বলেন রাশেদ খান। তিনি জানান, একজন শ্রমিকের সন্তান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।
পোস্টের শেষাংশে কর্নেল অলি আহমেদকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘জামায়াতে গেলে যে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না, আপনি তার নিকৃষ্ট ও বাস্তব উদাহরণ।’
তবে রাশেদ খানের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কর্নেল অলি আহমেদের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।