রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ভেঙে পড়ার ফলেই অভ্যুত্থান ঘটে—তবে সেই অভ্যুত্থানের পর জনগণ প্রতারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে। গণঅভ্যুত্থানের পর সব শ্রেণির মানুষ রাষ্ট্র নিয়ে আলোচনা করছে। রাষ্ট্র বহু বিষয়ের সমষ্টি হলেও এর মূল ভিত্তি জনগণ। দেশের মানুষ যতদিন পর্যন্ত বাঙালি সভ্যতার প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে না বুঝবে, ততদিন বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা কঠিন হবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়াম-এ ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সুস্পষ্ট নীতিমালার অভাবের কথা তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বন্দ্বে বহু সংস্কার আটকে আছে। এখন ভোটের মাধ্যমে সেই সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা জনগণের হাতেই রয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের এটি শেষ সুযোগ।
তিনি আরও বলেন, দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলো ব্যর্থ হলেও জনগণ চাইলে নতুন উদ্যোগ নিতে পারে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে, তাদের ন্যূনতম লজ্জাবোধ নেই। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সফল করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমানের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেই পরিকল্পনায় হাদির রাষ্ট্র-স্বপ্ন বাস্তবায়ন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমন থাকতে হবে। তা না থাকলে সেটি অন্য কারও স্বার্থরক্ষার পরিকল্পনা বলে ধরে নিতে হবে।
হাদি হত্যার বিচার নিয়ে সরকারের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কেবল জনরোষ সামাল দিতে জানাজার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান—হাদি হত্যা যেন সাগর–রুনি হত্যা মামলার মতো দীর্ঘসূত্রতায় না পড়ে।