রাজধানী ঢাকার ওপর ক্রমবর্ধমান ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, ভূমিকম্প আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত প্রাকৃতিক একটি ঘটনা হলেও বিশ্বের উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তি, পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম হয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশে পরিকল্পনার অভাব, প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা আজ ভয়াবহ দুর্যোগে রূপ নিচ্ছে।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের কোনো শহরই পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠেনি। পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—এত সংস্থা থাকা সত্ত্বেও নিরাপদ নগরায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, অতীতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তাদের সবাইকে এই পরিস্থিতির দায় নিতে হবে।
চরমোনাই পীর বলেন, জাপানের মতো দেশে ভূমিকম্প নিয়মিত হলেও উন্নত পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির কারণে মানুষ নিরাপদ থাকে। কিন্তু ঢাকায় অপরিকল্পিত ভবন, সংকীর্ণ রাস্তা, দুর্বল অবকাঠামো এবং অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের কারণে যেকোনো শক্তিশালী ভূমিকম্প ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সাম্প্রতিক কম্পনগুলো রাজধানীবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, এখনই ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং বিদেশি পরামর্শকদের যুক্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করতে হবে। এসব ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে—কারণ এই দুরবস্থার মূল কারণ রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অদক্ষতা।
চরমোনাই পীর বলেন, দুর্যোগের পর সরকারি সংস্থাগুলো নড়েচড়ে বসে—এটি একটি দীর্ঘদিনের চিত্র। তিনি চান, সংস্থাগুলো আগাম প্রস্তুতি নিক, উদ্ধার ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাক এবং জনগণকে আশ্বস্ত করুক। একই সঙ্গে তিনি সকলকে তওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার আহ্বান জানান।