বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও এ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, “আমরা প্রশাসনকে বলেছি— রক্তের বদলা রক্ত নয়, হাতের বদলা হাত নয়, পায়ের বদলা পা নয়। বাংলাদেশের মাটিতে সব নির্যাতনের বিচার হবে আইনের আওতায়ই। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা মনে করছেন সামনে ষড়যন্ত্র করবেন, সামনে কুককুড়ি খেলবেন, সেই খেলার সময় আপনারা পাবেন না।”
শুক্রবার বিকেলে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাটফাজিলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, “শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও আমরা তার দলের নেতা-কর্মীদের পাহারা দিচ্ছি। ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জনগণ যখন নিজেদের ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন, তখন তিনি চাইলে আদালতের মুখোমুখি হতে পারতেন, বিচার গ্রহণ করতে পারতেন।
কিন্তু তা না করে উনি পালিয়ে গেছেন হেলিকপ্টারে, বোনকে সঙ্গে নিয়ে। যাওয়ার আগে তার আত্মীয়-স্বজন যারা ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়েছেন, লুটপাট করেছেন, বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন— তাদেরকেও পাচার করে দিয়েছেন। আর দেশের লাখ লাখ নেতা-কর্মীকে রেখে গেছেন অসহায় অবস্থায়। তাদের নিরাপত্তা এখন আমরা দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে দেশের প্রতিটি সেক্টরে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া— সর্বত্র মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ১৭ বছর পর আবার যখন জনগণ ভোট দিতে যাচ্ছে, তখন এই ভোট হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। এই ভোটের লক্ষ্য হবে আইনের শাসন ও স্থিতিশীল রাজনীতি প্রতিষ্ঠা।”
এসময় তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই নির্বাচনের ওপর। জনগণ যেন ভয়মুক্তভাবে ভোট দিতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।”
গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম। বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম কাজল, মোস্তাফিজুর রহমান তুর্কি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ওয়ালিদ হাসান পিকুল, এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবু মুছা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে— এখন সময় এসেছে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার।