আদালত এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে না, বরং দলীয়করণে পরিণত হয়েছে— এমন অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম। তিনি বলেন, “সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে হাজির না হয়েও খালাস পাচ্ছে। কেউ কেউ দেশে পর্যন্ত নেই, তবুও মুক্তি পাচ্ছে— এটা কেমন বিচারালয়?”
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে বরগুনার বামনা উপজেলার হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী বিদ্যালয় মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমরা জুলাইয়ে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছিলাম। ভেবেছিলাম বৈষম্য দূর হবে, মানুষ শান্তি পাবে। কিন্তু এখন দেখি আদালত বলতে কিছু নেই, বিচার ব্যবস্থা দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।”
ফয়জুল করিম আরও বলেন, “১৯৪৭ সালের পর থেকে যারা ক্ষমতায় এসেছে, কেউ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন আনতে পারেনি। স্বাধীনতার পরও বৈষম্য থেকে মুক্তি মেলেনি। চোর যদি এমপি হয়, সে চুরি করবেই— এটা স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগকে যে চাঁদাবাজি, জুলুম আর ধর্ষণের কারণে মানুষ তাড়িয়েছে, সেইসব কর্মকাণ্ড এখনো বন্ধ হয়নি।”
তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনীতিতে আদর্শের পরিবর্তন না হলে কখনোই শান্তি ফিরবে না। “যাদের হাতে খুনের রক্ত, চাঁদাবাজি আর লুটপাটের ইতিহাস আছে, তাদের কোনো নিরীহ মানুষ ভোট দেবে না,” বলেন তিনি।
আগামী নির্বাচনে জনগণকে হাতপাখায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফয়জুল করিম বলেন, “মানুষ ভোট দেবে তাদেরকেই, যাদের মাধ্যমে জান-মালের নিরাপত্তা পাবে। এজন্য হাতপাখায় ভোট দিন, ইনশাআল্লাহ দেশে শান্তি ফিরে আসবে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন বামনা উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি আব্দুস সোবহান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির বরগুনা–২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস শাকুর, জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল আলম, সহকারী সেক্রেটারি রেজাউল করিম আকন এবং সহ–প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক এইচ এম আহমাদুল্লাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন জিহাদী।
সভায় বক্তারা দেশের বিচারব্যবস্থার অবস্থা, প্রশাসনিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক দুর্নীতি নিয়ে সমালোচনা করেন এবং জনগণের পক্ষে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শপথ পুনর্ব্যক্ত করেন।