শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

লন্ডনেই ঈদ করবেন খালেদা জিয়া, রোজায় ভোটের প্রচারে থাকবে বিএনপি

বরাবরই রোজার মাসকে সাংগঠনিকভাবে কাজে লাগায় বিএনপি। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে স্বাভাবিক রাজনীতি ও ভোটের প্রচারে ব্যস্ত থাকবে দলটি। আসছে মার্চে শুরু হতে যাওয়া রমজানে কেন্দ্রীয়ভাবে কয়েকটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবে বিএনপি। এরই মধ্যে চারটি ইফতার মাহফিলের সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশেই তৃণমূল পর্যায়েও ইফতার মাহফিল ঘিরে ভোটের […]

লন্ডনেই ঈদ করবেন খালেদা জিয়া, রোজায় ভোটের প্রচারে থাকবে বিএনপি

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১১:৪০

বরাবরই রোজার মাসকে সাংগঠনিকভাবে কাজে লাগায় বিএনপি। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না। এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে স্বাভাবিক রাজনীতি ও ভোটের প্রচারে ব্যস্ত থাকবে দলটি। আসছে মার্চে শুরু হতে যাওয়া রমজানে কেন্দ্রীয়ভাবে কয়েকটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবে বিএনপি। এরই মধ্যে চারটি ইফতার মাহফিলের সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশেই তৃণমূল পর্যায়েও ইফতার মাহফিল ঘিরে ভোটের রাজনীতি চাঙ্গা থাকবে বলে দলটির নেতাকর্মীরা জানান।

সূচি অনুযায়ী প্রথম রোজায় এতিম ও আলেমদের সম্মানে, ৬ মার্চ কূটনীতিক এবং ৯ মার্চ রাজনীতিবিদদের সম্মানে পৃথকভাবে ইফতার মাহফিল হবে। পাশাপাশি আরও একটি ইফতার হবে কেন্দ্রীয়ভাবে (দিন চূড়ান্ত হয়নি)। এবার জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হলে তাদেরও স্বাগত এবং আমন্ত্রণ জানাবে দলটি। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে তার বড় ছেলের সঙ্গে এবারের ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এখনো বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় বিএনপি। পাশাপাশি দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সম্প্রতি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেছেন তিনি। এ ছাড়া গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি এবং রাষ্ট্রে পতিত ফ্যাসিবাদের নানা চক্রান্তের অপচেষ্টা মোকাবিলাসহ বিভিন্ন জনদাবিতে বিএনপির উদ্যোগে সারা দেশে জেলা ও মহানগরে পর্যায়ক্রমে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা রমজান শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত চলবে।

সূত্র জানায়, মার্চের শুরুতে রোজার মাস হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো নির্বাচনের রূপরেখা স্পষ্ট করেনি। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় এবং উজ্জীবিত রাখার লক্ষ্যে ভিন্ন কিছু কর্মসূচি নেওয়াটাই সমীচীন। সেজন্য আসন্ন রমজান মাস হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই মাসে সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় ও সংঘবদ্ধ রাখতে পবিত্র রোজার মাসে সারা দেশে ইফতার মাহফিল আয়োজন করবেন সংশ্লিষ্টরা। গত বছরও সারা দেশে তৃণমূলে ইউনিয়ন, এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সবমিলিয়ে প্রায় ১ হাজারের বেশি ইফতার মাহফিল করা হয়েছিল।

জানতে চাইলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, প্রতি বছরই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এবং সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল হয়। এবারও বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে চারটি ইফতার মাহফিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জেনেছি।

বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ রাখা বিএনপির অন্যতম টার্গেট। সেইসঙ্গে বরাবরের মতো এবারও গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারে ঈদ উপহারসামগ্রী পাঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের কিছু শহীদ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকেও সহযোগিতা করার পরিকল্পনা আছে বিএনপির। এ বিষয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন গতকাল বলেন, আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। বিষয়টি আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হবে।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, রোজার মাসে সাধারণত মানুষ ধর্মকর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। প্রায় প্রতি বছরই আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কয়েকটি ইফতার মাহফিল করে থাকেন। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। অতীতের ধারাবাহিকতায় অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও আমাদের ইফতার মাহফিলের আয়োজন থাকবে। সেটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলেও হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।

এদিকে কাউন্সিলের আদলে দীর্ঘদিন পর ঢাকায় বর্ধিত সভা ডেকেছে বিএনপি। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি দলের এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর লা মেরিডিয়েন হোটেলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছিলেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর তিন দিন পর ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা নিয়ে কারাগারে যান। ওই বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পরে কারচুপির অভিযোগ এনে ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানায় তারা।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বর্ধিত সভার তারিখ ঘোষণা করে বলেন, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে যারা দলের প্রার্থী ছিলেন এবং দলের টিকিট অর্থাৎ প্রার্থী নন; কিন্তু মনোনয়নের জন্য ‘সেকেন্ডারি’ কাগজ পেয়েছিলেন, তারাও বর্ধিত সভায় থাকবেন। এ ছাড়া বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, থানা-উপজেলা-পৌর কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা অংশ নেবেন বর্ধিত সভায়। বিএনপি ছাড়া ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও থাকবেন সেখানে।

এদিকে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঈদুল ফিতরের পর দেশে ফিরবেন। দেশে ফেরার দিনক্ষণ এখনো সুনির্দিষ্ট নয়। লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকরা বাসায় গিয়ে খালেদা জিয়ার নিয়মিত ফলোআপ করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের সফরসঙ্গী ও উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী এমন তথ্য জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। লন্ডনের বিশেষায়িত হাসপাতাল লন্ডন ক্লিনিকের লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড যেদিন বলবে, সেদিনই তিনি দেশে ফিরবেন। খালেদা জিয়ার ১৫ সফরসঙ্গীর মধ্যে এরই মধ্যে আটজন দেশে ফিরেছেন। বাকিরা তার সঙ্গে ফিরবেন।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৫

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৭

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৭

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৭