শেখ নজরুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার তালায় মাদকের তথ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক গ্রাম পুলিশকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের আটক করতে গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া এবং অভিযানকারী পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছে।
মামলাটিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হাজরাকাটি গ্রামের মৃত আপু বিশ্বাসের ছেলে ফারুক বিশ্বাস, নূর ইসলাম বিশ্বাসের ছেলে রফিকুল বিশ্বাস ও মোসলেম খাঁর ছেলে রাশেদ খাঁ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকের তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গত ৩ অক্টোবর রাতে হাজরাকাটি বাজারের একটি চায়ের দোকানের সামনে খলিলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সোহেল শেখকে মারধর করা হয়।
বিল্লাল বিশ্বাস, ফারুক বিশ্বাস ও হযরত সরদারসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। এ সময় লাঠিপেটায় আহত সোহেলকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে সোহেল শেখ তালা থানায় লিখিত অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগ ও জিডির ভিত্তিতে রোববার রাতে অভিযুক্তদের আটক করতে হাজরাকাটি গ্রামে অভিযান চালায় তালা থানার পুলিশ।
এ সময় হযরত নামে এক অভিযুক্তকে আটক করা হলে স্থানীয় কয়েকজন পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ। পরে অভিযানকারী পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পরে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে ফারুক বিশ্বাস, রফিকুল বিশ্বাস ও রাশেদ খাঁকে আটক করা হয়। তালা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহাসীন জানান, পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছে।
মামলার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তালা থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গ্রাম পুলিশকে মারধরের ঘটনায় করা অভিযোগ ও জিডির ভিত্তিতে আসামিদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে আটক একজনকে ছিনিয়ে নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয় এবং তিনজনকে আটক করা হয়।