সিলেটে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত
পরিকল্পিত নগরায়ণ ও নাগরিক সেবা সহজ করতে সিলেটে চালু হয়েছে ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিট সিস্টেম (ইসিপিএস)। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই ভবন নির্মাণের অনুমোদনসহ সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন নাগরিকরা। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরাও অনলাইনের মাধ্যমে এসব সেবা নিতে পারবেন।
“সর্বজনীন বাসস্থান—টেকসই নগরায়ণ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (৫ অক্টোবর) সিলেটে বিশ্ব বসতি দিবস–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
ঘরে বসেই ভবন অনুমোদনের সুযোগ
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মোহাম্মদ আলী জিমনেসিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ইসিপিএস চালুর ফলে ভবনের অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আধুনিক হবে। নাগরিকদের সরাসরি অফিসে আসার প্রয়োজন কমবে এবং অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।
বিশেষ করে প্রবাসীরা বিদেশে অবস্থান করেও ভবন নির্মাণের অনুমোদনসহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান ডিসির
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাবে সিলেট জেলা প্রশাসন।
ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে নাগরিকদের সময় ও ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বড় পরিসরে বিশ্ব বসতি দিবসের আয়োজন
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাত্রার পর এবারই প্রথম বড় পরিসরে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে সেমিনার ও মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনে বর্ণাঢ্য র্যালি, ইসিপিএস উদ্বোধন, আলোচনা সভা, আইডিয়া কম্পিটিশন, মডেল স্টল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের মতে, সিলেট সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
চিত্রাঙ্কনে শিক্ষার্থীদের চোখে বাসযোগ্য নগর
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে এর আগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবিতে উঠে আসে পরিকল্পিত নগর, সবুজ পরিবেশ, খেলার মাঠ, সড়ক, জলাধার ও নাগরিক সুবিধার নানা চিত্র। একটি আদর্শ ও বাসযোগ্য নগর কেমন হওয়া উচিত, চিত্রের মাধ্যমে সেই ভাবনা তুলে ধরে তারা।
দ্বিতীয় দিনেও থাকছে নানা আয়োজন
দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে আধুনিক নগরায়ণ, পরিকল্পিত বসতি ও টেকসই নগর গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকরা বলছেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সিলেট গড়ে তোলাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।