নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলে চালু হওয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অসহিষ্ণুতার অপসংস্কৃতি এখন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরও চর্চা করছে বলে অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে মৃত ব্যক্তির সঙ্গেও প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
আবু হানিফ বলেন, জামায়াত নেতা প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ দাফন নিয়ে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জামায়াত-শিবিরের বাধার মুখে মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে মানিক পশারীর মরদেহ দাফন করতে হয়েছে।
তিনি জানান, শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর নিজ বাড়িতে তাঁর মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ। এ সময় পরিবারের নারী সদস্যদের কবর খুঁড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে আবু হানিফ প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত একসময় নিজেদের শত্রুর সঙ্গেও ন্যায়বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ একজন মৃত ব্যক্তির দাফন নিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন কোথায়?
অতীতের কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কবর ঘিরে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বে হামলার ঘটনা এবং ২০১৯ সালের ২২ জুন চট্টগ্রামের প্যারেড ময়দানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাজায় হামলার অভিযোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
আবু হানিফের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কারও কবর বা জানাজায় হামলা চালানো চরম অসভ্যতা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো রাজনৈতিক দলের জন্যই মঙ্গলজনক নয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা জীবিত মানুষের মধ্যে থাকতে পারে। কিন্তু সেই বিরোধিতার জেরে মৃত ব্যক্তির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন কিংবা দাফনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
গণঅধিকার পরিষদের এই মুখপাত্র অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ যে প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা করেছে, জামায়াত-শিবিরও এখন একই পথে হাঁটছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আবু হানিফ বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রতিহিংসা ও অসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যাশা নিয়েই মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মৃত মানুষের প্রতি এমন আচরণ আর দেখতে চান না তাঁরা।
রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকলেও মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।