রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আজ ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন

রাজনৈতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক পরিবারের উত্তরসূরি হলেও নিজের শিক্ষা, মেধা ও পেশাগত দক্ষতায় স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান। আইন পেশা থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু করা এই তরুণীর আজ ৩১তম জন্মদিন। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ […]

আজ ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২

রাজনৈতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক পরিবারের উত্তরসূরি হলেও নিজের শিক্ষা, মেধা ও পেশাগত দক্ষতায় স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান। আইন পেশা থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু করা এই তরুণীর আজ ৩১তম জন্মদিন।

আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জীবনের ৩১ বছর পূর্ণ করে আজ ৩২তম বছরে পা রাখলেন এই তরুণ আইনজীবী।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত পরিবারের সদস্য জাইমা রহমান। তাঁর দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অন্যদিকে তাঁর নানা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান ও সরকারের মন্ত্রী।

এমন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঐতিহ্যের পরিবারে বেড়ে উঠলেও জাইমা রহমান নিজের পেশাগত পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য বেছে নিয়েছেন আইন ও জননীতির ক্ষেত্র।

শৈশবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের বাসভবনে। ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে শুরু হয় তাঁর শিক্ষাজীবন। ২০০৮ সালে বাবা তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে বসবাস ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন জাইমা রহমান। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার পর তিনি পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে। দেশের পরিচিত আইন প্রতিষ্ঠান সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসেও কাজ করেছেন তিনি। সাংবিধানিক আইন, বাণিজ্যিক ও করপোরেট আইনসহ বিভিন্ন আইনি বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন জাইমা।

দেশের আইন অঙ্গনেও নিজের অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষার প্রথম ধাপ, অর্থাৎ এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও ধীরে ধীরে পরিচিতি পেয়েছেন জাইমা রহমান। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন তিনি। ওই সফরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাইমা। এটি ছিল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিগুলোর একটি।

তবে তাঁর পেশাগত জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন আসে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা বা লিগ্যাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির নির্বাহী দপ্তরে আইনবিষয়ক দায়িত্ব পালনের সুযোগ তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক পরিসরে এ ধরনের দায়িত্ব তাঁর আইন ও নীতিবিষয়ক অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করেছে।

আইন পেশার পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতিও আগ্রহ রয়েছে জাইমা রহমানের। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ‘সুরভী’র পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুশাসন, ন্যায়বিচার, শিক্ষার প্রসার, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোও তাঁর আগ্রহের ক্ষেত্র।

দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেশে ফেরেন জাইমা রহমান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত কর্মকাণ্ডও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে।

তবে পারিবারিক পরিচয়ের বাইরেও একজন আইনজীবী হিসেবে তাঁর শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

আজ জন্মদিনে জীবনের আরও একটি অধ্যায়ে পা রাখলেন ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান। সামনে অপেক্ষা করছে নতুন সম্ভাবনা, নতুন অভিজ্ঞতা এবং বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার সুযোগ।

জন্মদিনে শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, নিজের মেধা, যোগ্যতা ও মানবিক মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে আইন, সমাজ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও অর্থবহ ভূমিকা রাখবেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।